শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ।। ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৫ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন সরোয়ার আলমগীর যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় আইআরজিসির ৩ সদস্য নিহত মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য শুরু হচ্ছে প্রমিত উচ্চারণ ও উপস্থাপনা শেখার কোর্স হাইআতুল উলয়ার সঙ্গে একাত্মতা হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের কথার ফুলঝুরি নয়, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে: পীর সাহেব চরমোনাই জামিয়া ফরিদাবাদের ৭০ সালা দস্তারবন্দি মহাসম্মেলন ২৩ ও ২৪ নভেম্বর ‘জাতি বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়’ যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সফল করতে সিলেটে মতবিনিময় ঢাকায় ‘ইমামুল হিন্দ শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলবী (রহ.) কনফারেন্স’ ১৮ জুলাই মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নাগরিক সমাবেশ শুক্রবার

কোথায় হারালো মুসলমানদের সত্যের প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি?


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
প্রতীকি ছবি

|| আরিফ আজাদ ||

হাদিসশাস্ত্র ইসলামের ইলম তথা জ্ঞানের এক সুবিশাল এবং সুবিস্তৃত ক্ষেত্র। নবীজি সাল্লাললাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতিটা কথা, দাঁড়ি-কমাসহ নির্ভুলভাবে কীভাবে যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছে দিয়েছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সেটা এক অপার রহস্য।
এই কাজে মহান রব এমনকিছু মানুষকে নিয়োজিত করেছিলেন যারা নিজেদের জীবনকে শুধু এই কাজের জন্য উৎসর্গ করেছিলেন। যাদের আমরা হাদিসশাস্ত্রের ইমাম বলে চিনি। ইমাম বোখারি, ইমাম মুসলিম, নাসায়ি, ইমাম তিরমিজিসহ অসংখ্য হাদিসের ইমাম এই ধারাটাকে সমৃদ্ধ করে গিয়েছেন।

এই ইমামগণ সেই সুপ্রাচীন আমলে, যখন গাড়ি ছিল না, বিমান ছিল না, ইলেকট্রিসিটি ছিল না, কখনো পায়ে হেঁটে, কখনো জাহাজে চড়ে, কখনো ঘোড়া বা গাধার পিটে সরওয়ার হয়ে, দুর্গম মরুভূমি পথ পাড়ি দিয়ে, রুক্ষ আবহাওয়ার সাথে পাঞ্জা লড়ে দেশ বিদেশে পাড়ি জমাতেন হাদিস সংগ্রহের জন্য।

তারা পথের ক্লান্তিকে গায়ে মাখাতেন না, দুর্গম পথে বিপদের চোখ রাঙানিকেও তারা আমলে নিতেন না, খাবারের কষ্ট, পানির কষ্ট, ঘুম আর আরামের অভাব—কোনোকিছুই তাদেরকে এই অদম্য যাত্রা থেকে বিরত করতে পারত না।

তবে একটা জিনিস তাদেরকে আটকে দিতো হাদিস সংগ্রহের যাত্রায়। আপনি জানেন সেটা কি? সেটা হলো—মিথ্যা।

হাদিস সংকলনের ইতিহাসে মুহাদ্দিসদের এমন ঘটনাও আছে, একজন হাদিসের ইমাম কোনোভাবে জেনেছেন যে অমুক দেশে এক লোক আছে যার কাছে বিশুদ্ধ সূত্রের বরাতে আল্লাহর রাসুলের একটা হাদিস পৌঁছেছে। সেই ইমাম বহু কাঠখড় পুড়িয়ে, বহু পথ মাড়িয়ে সেই দেশে গিয়ে সেই লোকটার ঠিকানা খুঁজে বের করলেন শুধু সেই হাদিসটা শোনার জন্য, যে হাদিসটা বিশুদ্ধ সূত্রের মাধ্যমে তার কাছে এসে পৌঁছেছে।

তবে, তার ঠিকানায় গিয়ে উক্ত ইমাম জানলেন যে, যদিও তার কাছে যে হাদিস পৌঁছেছে সেটার সূত্র বিশুদ্ধ, কিন্তু লোকটার মিথ্যা কথা বলার বাতিক আছে। অর্থাৎ, সেই লোকটা লোকসমাজে মিথ্যাবাদী বলে খ্যাত ছিল।

তারপর কী করেছেন সেই হাদিসের ইমাম, জানেন?
সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা দেশ, ভিন্ন একটা ভূখণ্ড থেকে এতো কষ্ট করে যাওয়ার পরেও, যে হাদিসটা সংগ্রহের জন্য গিয়েছেন সেটার সনদ অত্যন্ত মজবুত আর বিশুদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও, উক্ত ইমাম সেই হাদিসটা সংগ্রহ না করে ফেরত চলে এসেছিলেন শুধু এই কারণে যে—লোকটার মিথ্যা কথা বলার বদ-অভ্যাস ছিল। মিথ্যা আর মিথ্যাবাদীকে ইসলাম কীভাবে ডিল করে, সেই উসুলটা এই ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারি।

কিন্তু হায়, কী দুর্ভাগ্য আমাদের, আজ আমাদের এতো দুর্দশা যে, চারপাশে যারা অধিক মিথ্যা কথা বলে, তাদেরকেই আমরা অবলীলায় মেনে চলছি, নেতা বানাচ্ছি, অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কোথায় হারালো মুসলমানদের সত্যের প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি?

লেখক: অ্যাকটিভিস্ট ও লেখক

এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ