আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের আমির মাওলানা ফজলুর রহমান বলেছেন, পাকিস্তান আমাদের দেশ। এ দেশ, এর ব্যবস্থা ও আমানত রক্ষায় আমরা লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের আন্দোলনের নাম সহিংসতা নয়, ধারাবাহিকতা। নানা বাধা ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ইসলামাবাদে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দিকে ইঙ্গিত করে মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, কখনো আপনারা গোয়াদর, কখনো বেলুচিস্তানের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চল, আবার কখনো সিন্ধুর দ্বীপগুলোর দিকে নজর দিচ্ছেন। আপনারা যা ইচ্ছা করুন, আমরা আপনাদের কাছ থেকে ন্যায়বিচার আশা করি না। আপনাদের জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানগুলো আসলে প্রতিশোধের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, এগুলো প্রকৃত অর্থে জবাবদিহির প্রতিষ্ঠান নয়।
তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আমাদের কথা বলতে হবে, যুক্তি দিয়ে কথা বলতে হবে। আমরা কারও সঙ্গে বিবাদে জড়াতে চাই না। আপনারা জাতীয় সম্পদ লুটপাটের চেষ্টা করছেন, আর আমরা মাতৃভূমি রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে কে নোটিশ পেল, কার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো—এসব বিষয় সামনে আনা হচ্ছে। অথচ মূল প্রশ্ন হলো, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন কেন জারি করা হলো? সেখানে জরুরি অবস্থা কেন ঘোষণা করা হলো?
মাদরাসার ব্যবস্থাপনা নিয়ে অপপ্রচারের সমালোচনা করে জমিয়ত আমির বলেন, একটি মাদরাসার নিজস্ব ব্যবস্থাপনা থাকে। মুহতামিম নিজ উদ্যোগে জমি সংগ্রহ করেন, অর্থ সংগ্রহ করেন এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এরপর তিনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বা ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত হন। অথচ বলা হচ্ছে, ফজলুর রহমানের বিশ হাজার মাদরাসা রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ ও অপপ্রচারেরও একটি শালীনতা থাকা উচিত।
তিনি বলেন, যারা আপনাদের গালাগাল করে, তারাই রাষ্ট্রপতি ভবনে বসে, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী কিংবা প্রতিরক্ষামন্ত্রী হয়। আর যিনি বলেন, দেশ আমার, সেনাবাহিনীও আমার, আজ তাঁকেই রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তাঁকে দেশের কোথাও জনসভা বা সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে আল্লাহর জমিন অনেক বিস্তৃত। এক জায়গায় বাধা দিলে অন্য জায়গায় গিয়ে মানুষ সমবেত হবে।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যারা যুদ্ধ করেছিলেন, তাঁদেরও একসময় রাষ্ট্রদ্রোহী বলা হয়েছিল। আজও যারা ভিন্নমত প্রকাশ করেন, তাঁদের রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আপনি শতবার পাকিস্তানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করলেও বর্তমান সামরিক-রাজনৈতিক ক্ষমতাকেন্দ্রের অনুসরণ না করলে কিংবা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা না করলে আপনাকে রাষ্ট্রদ্রোহী সাব্যস্ত করা হয়। রাজনৈতিক বিরোধিতা ও মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু বড় মাপের মানুষেরা বিরোধিতার ক্ষেত্রেও মর্যাদা ও শালীনতা বজায় রাখেন। অথচ এখন অত্যন্ত নিম্নমানের কর্মকাণ্ড চলছে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে তাঁর বক্তব্য এবং অন্যদের বক্তব্য পাশাপাশি তুলে ধরলেই মানুষ বুঝতে পারবে, কে কী বলছেন।
সূত্র: মাওলানা ফজলুর রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ
আইও/