আওয়ার ইসলাম ডেস্ক
পাকিস্তানের রায়বেন্ডে তাবলিগ জামাতের ইজতেমা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আসরের নামাজের পর বয়ানের মধ্য দিয়ে পাঞ্জাব প্রদেশের রায়বেন্ড মারকাজে শুরু হয় বার্ষিক এই জমায়েত। দুই পর্বে অনুষ্ঠেয় এবারের ইজতেমার প্রথম পর্ব চলবে ৮ নভেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ১২ নভেম্বর, চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত।
ইজতেমায় পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাবলিগের সাথীরা অংশ নিচ্ছেন। তাবলিগ জামাত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজামের মিডিয়া সমন্বয়ক হাবিবুল্লাহ রায়হান এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইজতেমার প্রথম দিনে বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর বয়ান করেন পাকিস্তানের মাওলানা আহমেদ বাটলা। মাগরিবের পর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা আহমেদ লাট সাহেব।
প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ফজরের পর বয়ান করেন বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক। তালিমের হালকায় ছিলেন মাওলানা জিয়াউল হক। জুমার নামাজের পর বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা ইসমাইল। আসরের পর বয়ান করবেন বাংলাদেশের মাওলানা রবিউল হক এবং মাগরিবের পর বয়ান করবেন মাওলানা আব্দুর রহমান।
শুক্রবার বিদেশি খিমায় বিভিন্ন ভাষাভাষী মুসল্লিদের জন্য বিশেষ বয়ানের আয়োজন রয়েছে। আরবি, ইংরেজি, মালয়েশীয়, ইন্দোনেশীয়, ফিলিপিনো, থাই, বাংলা, ফরাসি, উর্দু, তুর্কি, পর্তুগিজ, কিরগিজ ও চীনা ভাষাভাষীদের জন্য পৃথক বয়ানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র, মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশেষ আয়োজন রয়েছে।
শনিবার ফজরের পর বয়ান করবেন মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খুরশেদ। জোহরের পর বক্তব্য দেবেন ভাই ফারুক সাহেব। আসরের পর বয়ান করবেন মাওলানা জুহারুল হাসান এবং মাগরিবের পর বয়ান করবেন মাওলানা আহমেদ লাট সাহেব।
এদিন ওলামা, শিক্ষক, বধির, খওয়াস ও বিভিন্ন ভাষাভাষী বিদেশি মুসল্লিদের জন্য পৃথক মজমা ও বয়ানের আয়োজন রাখা হয়েছে। এসব আয়োজনে আরবি, ইংরেজি, বাংলা, ফরাসি, তুর্কি, কিরগিজ, মালয়েশীয়, থাই, ফিলিপিনো ও পর্তুগিজ ভাষায় বয়ান করবেন নির্ধারিত বক্তারা। বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আয়োজন।
রোববার সকালে হেদায়েতি বয়ান করবেন মাওলানা জিয়াউল হক সাহেব। এরপর মাওলানা জুহারুল হাসানের দোয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা।
রায়বেন্ড মারকাজ পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের রায়বেন্ড শহরে অবস্থিত। লাহোর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এর অবস্থান। তাবলিগ জামাতের অন্যতম বৃহৎ বার্ষিক জমায়েত হিসেবে পরিচিত রায়বেন্ড ইজতেমা।
আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের আগে এ ইজতেমা এক পর্বে অনুষ্ঠিত হতো। অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ইজতেমার মাঠ ও আশপাশের সড়কে চাপ তৈরি হয়। জনসমাগম, যানবাহন চলাচল, খাবার, পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সহজ করতে পরে দুই পর্বে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এখন পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলার মুসল্লিদের আলাদা পর্বে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এবার প্রথম পর্বের সমাপনী দোয়া অনুষ্ঠিত হবে ৮ নভেম্বর সকালে। দ্বিতীয় পর্বের সমাপনী দোয়া হবে ১৫ নভেম্বর। পাকিস্তানের বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ইজতেমার সমাপনী দোয়া সরাসরি সম্প্রচার করা হয়ে থাকে।
এদিকে, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম পর্ব ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় পর্ব ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
এসএইচ/