আন্তর্জাতিক ডেস্ক
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে টানা ৪৮ ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এই শহর ঘিরে থাকা ৫০টি জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্যোগপূর্ণ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ব্যাংকক প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে স্থানীয় সংস্থাগুলো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা লাভ করেছে।
গালফ নিউজের বরাতে ব্যাংককের গভর্নর জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণে শহরটিতে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার (১১.৮ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংককের ঠিক উত্তরের একটি খালের পাশে বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সী এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সোমকিদ ফুয়েক-ঙ্গাম এএফপিকে বলেন, পানি কেবল বেড়েই চলেছে। এখন বাইরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। পানির উচ্চতা এখন আমার কোমর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি কোথাও যেতে পারছি না। গত দুই দিন ধরে আমার দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছি।
অতীতেও এলাকায় পানি জমার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার মনে হয় এবারের বন্যা ২০১১ সালের ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে প্রায় অবিরাম বর্ষণের ফলে ব্যাংককের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে এবং খালের পানি উপচে দুই পাশের বাড়িঘর ও রেস্তোরাঁয় ঢুকে পড়েছে—এমন দৃশ্য দেখা গেছে সর্বত্র।
ব্যাংককের গভর্নর চাডচার্ট সিত্তিপুন্ট সামাজিকমাধ্যমে জানিয়েছেন, শহরের পূর্বাঞ্চল এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সামনে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
গভর্নর বলেন, বৃষ্টি থামছে না এবং আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করছি, কিন্তু খালের পানি ইতোমধ্যে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আছেন তারা, যারা খালের কাছাকাছি বসবাস করেন। কারণ প্রতিটি খালই এখন পানিতে ভরে গেছে। একই সঙ্গে তিনি নগরবাসীকে তাদের গাড়িগুলো নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
এ ছাড়া জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সরঞ্জামের ওপর নির্ভরশীল শয্যাশায়ী রোগীদের সাময়িকভাবে হাসপাতালে গিয়ে থাকার কথা বিবেচনা করার অনুরোধ জানান গভর্নর।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে এর আগে ২০১১ সালে হওয়া দেশব্যাপী এক ভয়াবহ বন্যায় ৫০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল এবং অজস্র বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সূত্র: গালফ নিউজ, এএফপি
আইও/