বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১২ রবিউস সানি ১৪৪৮


কাশ্মীর ও গাজা ইস্যুতে জাতিসংঘে জোরালো অবস্থান এরদোগানের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাশ্মীর সমস্যার সমাধান জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করে স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনের পক্ষে তুরস্কের অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের সময় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল অধিবেশনস্থল থেকে বেরিয়ে যায় এবং ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা করতালি দিয়ে তাঁর বক্তব্যকে স্বাগত জানান বলে আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজা পরিস্থিতি তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনে যুদ্ধবিরতিতে ভূমিকা রাখার পরও তথাকথিত যুদ্ধবিরতির মধ্যে গাজায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতি কাঠামোর দ্বিতীয় ধাপ গ্রহণ করলেও ইসরায়েল গাজা ও পশ্চিম তীরে তাদের কর্মকাণ্ড বন্ধ করছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

গাজাকে তিনি ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর ভাষায়, সেখানে এমন একটি হত্যাকেন্দ্রিক মানসিকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যার বিরুদ্ধে মানবিকতা, দয়া ও বিবেকসম্পন্ন কোনো মানুষ নীরব থাকতে পারে না।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, অবৈধ ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের তৎপরতার কারণে পশ্চিম তীর কঠিন সময় পার করছে। তুরস্ক এর আগেও অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ও উচ্ছেদ কার্যক্রমের সমালোচনা করেছে।

জাতিসংঘের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এরদোগান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্দেশ্যে ৮১ বছর আগে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হলেও সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালনে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে। ফিলিস্তিন, লেবানন ও সুদানে জাতিসংঘের কার্যক্রম অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে না পারার বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন এরদোগান। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার কারণে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আব্বাস নিউইয়র্কে উপস্থিত হতে পারছেন না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অবশ্য তাকে পূর্বধারণকৃত ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে ভাষণের সুযোগ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।

এরদোগান বলেন, প্রেসিডেন্ট আব্বাস আমাদের সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও গত বছরের মতো এবারও আমরা স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলে যাব।

তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের মঞ্চ থেকে ফিলিস্তিনি জনগণের অবস্থান বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা এবং স্বাধীন ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রাখবে তুরস্ক। চলতি বছরের আগস্টেও আব্বাসের সঙ্গে বৈঠকের পর এরদোগান জানিয়েছিলেন, তুরস্ক আন্তর্জাতিক সব ফোরামে ফিলিস্তিনের পক্ষে শক্ত অবস্থান অব্যাহত রাখবে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ভিত্তিতে ফিলিস্তিন ইস্যু এগিয়ে নিতে কাজ করবে।

ভাষণে ইউক্রেন যুদ্ধের বিষয়টিও তুলে ধরেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের সময় এসেছে। ইউক্রেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রেখে যুদ্ধের অবসান ঘটানোই তুরস্কের আন্তরিক প্রত্যাশা বলে জানান তিনি।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ