স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায়, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরমধ্যেই ভেনেজুয়ার প্রতিবেশী দেশ চিলিতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। তাৎক্ষণিকভাবে এ কম্পনে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিস) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় ১১টা ১২ মিনিটে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় অ্যান্টোফাগাস্তা উপকূলের কাছে ৫.৫ মাত্রার এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়েছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোকুইম্বোর নিকটবর্তী এলাকাসহ সমগ্র অঞ্চল জুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছিল। চিলির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবং ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত চিলি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায়ই মাঝারি থেকে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর আগে গত ১ জুন চিলিতে ৬.৯ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।
এদিকে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ১৬৪ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আরও ৯৭১ জন আহত হয়েছেন। তবে স্মরণকালের ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে বহু ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ে আছেন। ফলে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ইউএসজিস জানিয়েছে, বুধবার কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজধানী থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এরপর অন্তত ২০টি আফটারশক অনুভূত হয়েছে।
এদিকে উদ্ধারকর্মীরা ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, যোগাযোগ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সংকটময় এই পরিস্থিতিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের জন্য সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান।
সূত্র: ইয়ন, আল-জাজিরা
আইও