বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ।। ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৩ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দেশের প্রধান রুটে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর ঘোষণা সরকারের সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেবে বাংলাদেশ বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ২ লাখ ৮৩ হাজার রোহিঙ্গাকে স্বীকৃতি দিয়েছে মিয়ানমার মাত্র ১৬ দিনে প্রবাসী আয় ১৭২ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার ‘কিশোর গ্যাংয়ের ফেসবুক-টিকটক আইডি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে পুুলিশ’ হামের টিকায় গাফিলতি পেলে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি প্রধানমন্ত্রীর আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের বিশেষ ইমাম প্রশিক্ষণ এবার রাজশাহীতে কুরআন, কাবা ও ‘পাই’ (π): এক বিস্ময়কর সংখ্যার ইঙ্গিত দিরাই জামেয়ার মুহতামিম হলেন ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ ময়মনসিংহে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অতঃপর ডাকাতি

নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মধ্যেও স্থিতিশীল আফগান ব্যাংকিং খাত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও আফগানিস্তানের ব্যাংকিং খাত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গৃহীত বিভিন্ন নীতি ও সংস্কারমূলক উদ্যোগ ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে ব্যাংকিং খাতের বিকল্প নেই। সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক লেনদেন এবং আর্থিক প্রবাহের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ব্যাংকগুলো কাজ করে। ফলে এ খাতে সংকট দেখা দিলে তার প্রভাব গোটা অর্থনীতিতেই ছড়িয়ে পড়ে।

আফগানিস্তান গত কয়েক দশকে যুদ্ধ, রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং বৈদেশিক চাপের কারণে নানা ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। এসব পরিস্থিতির প্রভাব দেশটির ব্যাংকিং অবকাঠামো ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপরও পড়েছিল। তবে বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর ব্যাংকিং খাতকে সচল ও স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

দেশটির অন্যতম আর্থিক প্রতিষ্ঠান আজিজি ব্যাংকের প্রধান মিরওয়াইস আজিজি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বহুমুখী অর্থনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও আফগান ব্যাংকিং ব্যবস্থা কার্যকরভাবে টিকে রয়েছে। তার ভাষায়, বর্তমান বাস্তবতায় ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা অনেক পর্যবেক্ষকের কাছেই ইতিবাচক বিস্ময়ের বিষয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ গ্রহণ এবং আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেছে। এর ফলে আমানতকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহও বেড়েছে।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক নিয়মিত সেবা প্রদান করছে এবং সাধারণ মানুষ আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যাংকিং সেবার ওপর নির্ভর করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পেলে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তবে তারা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাঠামোগত সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা যেকোনো দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বলয় হিসেবে কাজ করে। আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আর্থিক খাতকে সচল রাখা সম্ভব। সূত্র:  হুরিয়াত রেডিও

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ