পাকিস্তান-সৌদি ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানালেন মুফতি তাকি উসমানী
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:১৫ সকাল
নিউজ ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ও পাকিস্তানের বিশিষ্ট আলেম মুফতি মুহাম্মদ তাকি উসমানী পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে মক্কা মুকাররমায় স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এ চুক্তিকে পুরো মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষার জন্য আনন্দ ও আশাবাদের খবর হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট তিন দেশের সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কা মুকাররমায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের উপস্থিতিতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ নামে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির মূলনীতির মধ্যে রয়েছে—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা।

মুফতি তাকি উসমানী বলেন, এটি পুরো মুসলিম বিশ্বের প্রতিরক্ষার জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। বাইতুল্লাহর সান্নিধ্যে এমন একটি চুক্তি সম্পাদনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো অভিনন্দনের যোগ্য।

তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত নিরাপত্তা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও দোয়া করেন, আল্লাহ তাআলা যেন উম্মতে মুসলিমাকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাওফিক দান করেন এবং পারস্পরিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করেন।

কী আছে মক্কা চুক্তিতে

সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তিটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা। অর্থাৎ তিন দেশের কোনো একটি রাষ্ট্র সশস্ত্র হামলার শিকার হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধে হামলা হিসেবে বিবেচনার নীতি এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও সামরিক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য রয়েছে।

চুক্তিটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক শক্তি ও পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র। তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প, ড্রোন প্রযুক্তি ও সামরিক সক্ষমতার কারণে আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। অন্যদিকে সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্র এবং পবিত্র মক্কা-মদিনার খাদেম হিসেবে মুসলিম বিশ্বের কাছে বিশেষ মর্যাদার অধিকারী।

এই তিন দেশের সামরিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতার সমন্বয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন। তবে চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ শর্ত ও বাস্তবায়ন কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো সীমিত। তাই এর সামরিক বাধ্যবাধকতার পরিধি নিয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য চুক্তির পূর্ণ পাঠ প্রকাশের অপেক্ষা প্রয়োজন।

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী মুহাম্মদ রেজা হায়াত হররাজ জানিয়েছিলেন, তিন দেশ প্রায় এক বছর ধরে আলোচনার পর একটি ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করেছে। তখন তিনি বলেছিলেন, চুক্তিটি পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যকার পৃথক দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির বাইরে একটি আলাদা উদ্যোগ।

এর আগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব নিজেদের মধ্যে একটি কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। ওই চুক্তিতেও এক দেশের ওপর আগ্রাসনকে উভয় দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছিল।

২০২৬ সালের এপ্রিলেও সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ওই দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর একটি দল, যুদ্ধবিমানসহ, সৌদি আরবে পৌঁছেছে। এতে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তব পর্যায়েও এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। সূত্র: মিল্লাত টাইমস উর্দু

আরএইচ/