পারস্য উপসাগরের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবল ও ক্লাউড অবকাঠামোকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, বিশ্লেষকরা এটি সম্ভাব্য ‘গোপন হুমকি’ হিসেবে ধারণা করছেন।
বুধবার (২২ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালি শুধু জ্বালানি পরিবহনের পথ নয়; এটি সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবলের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর। এই পথ দিয়েই সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত এবং সৌদি আরবের প্রধান ইন্টারনেট সংযোগগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের দক্ষিণের দেশগুলো ইন্টারনেট ব্যবস্থার জন্য সমুদ্রের নিচের কেবলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল, যা তাদের ঝুঁকির মুখে ফেলার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ নয়; বরং কৌশলগত বার্তা। এতে সাবমেরিন কেবল, ল্যান্ডিং স্টেশন ও ডেটা সেন্টারগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে আমিরাত ও বাহরাইনে অবস্থিত ক্লাউড অবকাঠামোর দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, এসব স্থাপনায় কোনো হামলা হলে তা অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা তীব্র। এরই মধ্যে সামনে এসেছে ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর হামলার ঘটনাও।
কিছু সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আমিরাত ও বাহরাইনে আমাজন ওয়েব সার্ভিসের স্থাপনায় ইরানি ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে বাণিজ্যিক ক্লাউড অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি স্থাপনা বা সমুদ্রপথের পাশাপাশি এখন সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল ও ডেটা সেন্টারও এই সংঘাতের নতুন ঝুঁকির ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।
তথ্যসূত্র : ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও টাইমস অব ইসরায়েল
