রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ।। ১৫ চৈত্র ১৪৩২ ।। ১০ শাওয়াল ১৪৪৭


যুদ্ধ বন্ধ করতে নতুন শর্ত ইরানের, বিলিয়ন ডলার হাতছানি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ বন্ধ করতে একগুচ্ছ দাবির মধ্যে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। তেহরান ‘হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের পূর্ণ সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি’ চায়, দেশটির তালিকায় আগে কখনো ছিল না শর্তটি।

বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় যে জলপথ ‍দিয়ে, সেটিই হলো হরমুজ প্রণালী। প্রণালীটিই এখন ইরানের সবচে‘ মজবুত হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই পথটিকে ইরান এখন, একদিকে যেমন সম্ভাব্য বার্ষিক শত শত কোটি ডলার আয়ের উৎস হিসেবে গড়তে চাইছে, তেমনি চাইছে বিশ্ব-অর্থনীতির ওপর একটি শক্তিশালী চাপ প্রয়োগের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতে।

দীর্ঘদিন ধরে হামলার শিকার হলে, ইরান এই প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল, তবে খুব কম মানুষই মাথা খাটিয়েছিল তা কার্যকারিতার ব্যাপারে। কিন্তু এরই মধ্যে ইরানি হামলার মুখে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া, তেহরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকগণ। উল্লেখিত নতুন শর্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তারা এই প্রভাবকে আরও স্থায়ী রূপ দিতে চাইছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সত্যিই যদি ইরান টোল আদায় শুরু করতে পারে, তবে তার মাসিক আয় মিসরের সুয়েজ খালকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিদিন এ পথ দিয়ে যাওয়া প্রতিটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ২০ লাখ ডলার ফি নিতে পারলে ইরানের মাসে আয় হবে ৮০ কোটি ডলারেরও বেশি।

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি প্রথম ভাষণে বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি অবরোধের সুযোগ ইরান কোনোভাবে হাতছাড়া করবে না।

এদিকে ইরানের এমন পরিকল্পনা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবি এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জলপথে এমন খবরদারি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিশ্ববাসীকে এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

সূত্র: সিএনএন

 

জেডএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ