ভারতীয় মুসলমানদের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন দেশটির মুসলমানদের সর্ববৃহৎ সংগঠন জমিয়তে ওলামায়ে হিন্দের সভাপতি ও বিশ্বের প্রভাবশালী আলেম মাওলানা সাইয়েদ মাহমুদ মাদানী। তার মতে, ভারতের মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ নিজেদের অনিরাপদ, কোণঠাসা এবং অপমানিত বোধ করছেন।
বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন উদ্বেগ প্রকাশ করে মাহমুদ মাদানী জানান, মুসলিমদের এই নিরাপত্তাহীনতা কোনো একটি নির্দিষ্ট ঘটনার ফল নয়; বরং এটি দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক পক্ষপাতিত্ব এবং শাসনব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তনের প্রতিফলন।
মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, ভারতের মতো বিশাল দেশে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটতেই পারে, কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো যখন কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া পক্ষপাতমূলক হয়। যাদের কাজ অন্যায় ঠেকানো এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, তারাই আজ চোখ বুজে আছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক মহলেও এই ধারণা প্রবল হচ্ছে যে ভারতে মুসলিমদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
আসামের কথিত অবৈধ অভিবাসী ইস্যু নিয়ে মাহমুদ মাদানী বলেন, এই বিষয়টিকে ধর্মীয় চশমা দিয়ে দেখা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ধর্ম নির্বিশেষে যেকোনো বিদেশি নাগরিক যদি বৈধ নথিপত্র ছাড়া ভারতে থাকেন, তবে তাকে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
এনআরসি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আক্ষেপ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রে বৈধ নাগরিকদেরও ‘বাংলাদেশি’ বলে সম্বোধন করা হচ্ছে। এমনকি আসামের মুখ্যমন্ত্রী তাকেও (মাদানী) বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উত্তরপ্রদেশসহ বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় ঈদের নামাজ পড়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি আইনের সমান প্রয়োগের দাবি জানান।
মাওলানা মাদানী বলেন, সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে রাস্তায় কোনো ধর্মীয় কর্মকাণ্ড চলবে না, তবে সেই নিয়ম সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। এটি যেন একতরফা না হয়।
আইও/