বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ১ রমজান ১৪৪৭


রমজানে আল-আকসায় প্রবেশে কড়াকড়ির পরিকল্পনা ইসরায়েলের

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আসন্ন রমজান মাসকে সামনে রেখে পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে মুসলিমদের প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল—এমন তথ্য সামনে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফিলিস্তিনের গ্র্যান্ড মুফতি ও সুপ্রিম ইসলামিক কাউন্সিলের প্রধান শেখ একরিমা সাবরি। তিনি জানান, বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতেই তারা এ পরিকল্পনার খবর পেয়েছেন।

আনাদোলু এজেন্সি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ একরিমা সাবরি বলেন, রমজান ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র মাস। মুসলমানরা মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.)-এর আদর্শ অনুসরণ করে এই মাসকে স্বাগত জানান। কিন্তু দখলদার শক্তি হিসেবে তিনি যাদের উল্লেখ করেছেন, তারা নাকি আসন্ন রমজানে আল-আকসায় ইবাদতের উদ্দেশ্যে আসতে চাওয়া মুসলিমদের প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ নিতেও তারা পিছপা হবে না বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত দুঃখজনক।

এদিকে একই ধরনের তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ। পত্রিকাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে মুসলিমদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার পরিকল্পনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু আলোচনা নয়, বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও এগিয়ে গেছে বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে মেজর জেনারেল আভশালোম পেলেড ইসরায়েলি পুলিশের অবরুদ্ধ পূর্ব জেরুজালেম শাখার শীর্ষ কমান্ডারের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এই পরিকল্পনা সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ উদ্যোগের পেছনে সার্বভৌম ভূখণ্ডটির জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গিভির-এর ভূমিকা রয়েছে।

পত্রিকাটি বেন-গিভিরের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনাও করেছে। হারেৎজের প্রতিবেদনে মন্তব্য করা হয়, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রীর গতিবিধি দেখে মনে হচ্ছে তিনি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। এমন মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং রাজনৈতিক বিতর্কেরও কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদ মুসলিমদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। প্রতি বছর এ সময় বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সেখানে নামাজ ও ধর্মীয় আচার পালনে অংশ নেন। ফলে প্রবেশাধিকার সীমিত করার যেকোনো পদক্ষেপ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

সব মিলিয়ে, রমজানকে সামনে রেখে আল-আকসায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নতুন করে উত্তেজনা বাড়াতে পারে। ফিলিস্তিনি ধর্মীয় নেতৃত্বের উদ্বেগ, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ভূমিকা—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তথ্যসূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ