ভারতীয় আদালত মুসলিমদের সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করছে বলে অভিযোগ করেছেন জমিয়তে উলেমায়ে হিন্দের সভাপতি মাহমুদ মাদানী। এর পেছরে সরকারি চাপ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রবিবার (৩০ অক্টোবর) ভারতের পশ্চিমবঙ্গভিত্তিক গণমাধ্যম পুবের কলমের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মাওলানা মাহমুদ মাদানী বলেন, দেশে সংখ্যালঘুরা ঠিকমতো ন্যায্য অধিকার পাচ্ছেন না, আর সেই অধিকার রক্ষা করা সরকারেরই দায়িত্ব। বিচার বিভাগের ওপর সরকারি চাপও রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, গত কয়েক বছরে বাবরি মসজিদ মামলাসহ তিন তালাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আদালতের রায় দেখে মনে হয়েছে, বিচার বিভাগের সিদ্ধান্তের উপর সরকারি চাপ রয়েছে। তার কথায়, সংবিধান সংখ্যালঘুদের যেসব অধিকার দিয়েছে, সাম্প্রতিক অনেক সিদ্ধান্ত সেই অধিকারকে খর্ব করেছে।
‘জিহাদ’ শব্দের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মাদানি বলেন, জিহাদকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ও সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে ‘লাভ জিহাদ’ বা ‘ল্যান্ড জিহাদ’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করে একটি ‘পবিত্র ধারণাকে’ বিকৃত করছে। তার কথায়, ধর্মীয় গ্রন্থে জিহাদ মানে অন্যের কল্যাণ ও মঙ্গলের জন্য সংগ্রাম। তিনি বলেন, ‘জিহাদ পবিত্র ছিল এবং থাকবে। নিপীড়ন হলে জিহাদ হবেই।’
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো হিংসাকে প্রশ্রয় দেয় না এবং ভারতের মুসলমানরা সংবিধানের প্রতি অনুগত। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব, এ কথাও স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
১৯৯১ সালের উপাসনালয় আইন থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন মামলার চলমান প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সব কোর্ট সুপ্রিম নয়। সুপ্রিম কোর্ট যদি সংবিধান রক্ষা করতে না পারে, তাহলে তাকে সর্বোচ্চ বলা যাবে না।’
মাদানীর বক্তব্য এবং বিজেপির পাল্টা তোপ- সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহল এখন সরগরম। সংখ্যালঘু অধিকার, আদালতের স্বাধীনতা এবং জিহাদ বিতর্কে উত্তেজনা আরো বাড়ছে দেশজুড়ে।
এলএইস/