রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ।। ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ ।। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭


গাজায় ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে লাখো মানুষের বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধ ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। জাতিসংঘ ঘোষিত আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ এনে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানান।

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার মধ্যেই এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। সর্বশেষ হামলায় দক্ষিণ গাজার খান ইউসুফের পূর্বাঞ্চল বানি সুহেইলাতে ড্রোন হামলায় আট ও দশ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয়।

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রায় ৫০,০০০ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা রাস্তায় নেমে 'গাজা, গাজা, প্যারিস তোমার সঙ্গে' এবং 'প্যারিস থেকে গাজা—চলছে প্রতিরোধ' স্লোগান দেন। পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি 'গণহত্যার' বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এক বিক্ষোভকারী আল জাজিরাকে বলেন, 'এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ন্যায়বিচারের কাছাকাছিও নই।' আরেকজন প্রশ্ন রেখে বলেন, 'আমরা সাধারণ মানুষ জানি—এটা ভুল। ক্ষমতাধররা কেন বুঝতে পারে না?'

ফ্রান্স প্যালেস্টাইন সলিডারিটি অ্যাসোসিয়েশনের (এএফপিএস) প্রধান আন তুইয়োঁ বলেন, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও প্রকৃতপক্ষে কিছুই সমাধান হয়নি। 'এই যুদ্ধবিরতি কেবল ধোঁয়াশা। ইসরায়েল প্রতিদিনই এটি লঙ্ঘন করছে, মানবিক সহায়তা আটকে দিচ্ছে এবং ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংস করছে।' তাদের দাবি—স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গণহত্যা বন্ধ।

এদিকে, ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনে আয়োজকরা জানান, প্রায় এক লাখ মানুষ মিছিলে অংশ নেয়। তারা ইসরায়েলের 'অপরাধের' বিচার এবং অবরুদ্ধ জনগণের সুরক্ষার দাবি জানান।

ইতালির রোমে বিক্ষোভে অংশ নেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ এবং জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। স্থানীয় গণমাধ্যম ওয়ানটেড ইন রোম জানায়, প্রায় এক লাখ মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল গাজা উপত্যকার ভেতরে তথাকথিত 'ইয়েলো লাইন' থাকলেও যুদ্ধবিরতির পরও অন্তত ৫০০ বার তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে; এতে ৩৪৭ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৮৮৯ জন আহত হয়েছে।

এদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, 'এতো নাগরিকের মৃত্যু, বারবার সমগ্র জনগোষ্ঠীর বাস্তুচ্যুতি এবং মানবিক সহায়তায় বাধা—কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।' 

গাজা সিটির আল জাজিরা সংবাদদাতা হিন্দ খাদরির বক্তব্য—আন্তর্জাতিক সংহতির জন্য জনগণ কৃতজ্ঞ হলেও অধিকাংশ মানুষের বাস্তবতা হলো ‘বেঁচে থাকার লড়াই’। তিনি বলেন, 'তাঁবুতে থাকা মানুষজন মৌলিক চাহিদা পূরণেও অসমর্থ। ওষুধ নেই, আশ্রয় নেই, শিশুদের কোনো শিক্ষা নেই। যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও ফিলিস্তিনিরা ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।'

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করে জানায়—যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল নতুন হামলা চালাচ্ছে এবং সহায়তার প্রবেশ বাধাগ্রস্ত করছে; যা 'গণহত্যামূলক কার্যক্রম' অব্যাহত রাখারই প্রমাণ।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ