রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫ ।। ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ ।। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৭


ফিলিস্তিনি নার্সকে অপহরণ, ইসরায়েলের হাতে তুলে দিয়েছিল আবু-শাবাব

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চল থেকে অপহৃত হয়েছিলেন নার্স তাসনিম আল-হামস। দুই মাস আটক রাখার পর তাকে খান ইউনুসে ছেড়ে দিয়ে গেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

তাসনিম আল-হামস অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েল-সমর্থিত পপুলার ফোর্সেস খ্যাত দেশদ্রোহী আবু শাবাব গ্যাং তাকে অপহরণ করে ইসরায়েলি সেনাদের হাতে তুলে দেয়। ইসরায়েলি সেনারা তার বাবার ওপর চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে তাকে ব্যবহার করেছে।

২২ বছর বয়সী তাসনিম স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, “আবু শাবাব গ্যাং আমাকে অপহরণ করে। পরে তারা আমাকে ইসরায়েলিদের কাছে হস্তান্তর করে—খান ইউনিসের পূর্ব দিকে। অপহরণের সময় তিনি একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

আবু শাবাব গোষ্ঠীটি্র বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী এবং আইএস-সম্পৃক্ত, বেসামরিকদের ওপর হামলা, ত্রাণ লুট ও ইসরায়েলি বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে। ফিলিস্তিনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদেরকে দেশদ্রোহী হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে।

তাসনিম জানান, তাকে বিভিন্ন ইসরায়েলি কারাগার ও আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে আশকেলন কারাগারও রয়েছে যেখানে তার বাবা ড. মারওয়ান আল-হামসকে আটক রাখা হয়েছে। তিন মাস আগে ইসরায়েলি বিশেষ বাহিনী তাকে অপহরণ করে।

তিনি বলেন, আমাকে বাবার জিজ্ঞাসাবাদে চাপ সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও বাবার সঙ্গে তার খুব অল্প সময়ের সাক্ষাৎ হয়েছিল।

তিনি বলেন, আমি শুধু চাই আমার বাবাকে মুক্তি দেওয়া হোক।

ডেমন কারাগারে আটক থাকার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তাসনিম বলেন, সেখানে প্রায় ৫০ জন ফিলিস্তিনি নারী বন্দী রয়েছেন যারা পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলের ভেতরের ফিলিস্তিনি সম্প্রদায় থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন বলে বর্ণনা করেন তিনি এবং সকল বন্দির মুক্তি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, নারী বন্দিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। তাদের জোর করে হিজাব ও জিলবাব খুলতে বাধ্য করা হয়, সেলে গ্যাস স্প্রে করা হয়, খাবার দেওয়া হয় না এবং শারীরিকভাবে হামলা করা হয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাসনিমের বাবা ড. আল-হামস একজন হামাস সদস্য এবং তিনি ২০১৪ সালে নিহত ইসরায়েলি সেনা হাদার গোল্ডিনের দেহ কোথায় দাফন করা হয়েছে সে সম্পর্কে জানতেন।

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী হাসপাতাল, ডাক্তার-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১,৫০০-এর বেশি স্বাস্থ্যকর্মী নিহত এবং ৩৬০ জনের বেশি আটক হয়েছে।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ