আফগানিস্তানের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় দেশটি এখন ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আগের থেকে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং সব ধরনের অনধিকার প্রবেশ প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে।
বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর সমাপনী অনুষ্ঠানে আফগানিস্তানের অর্থবিষয়ক উপ–প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গণি বারাদার সতর্ক করে বলেন, ‘কোনো দেশই আফগান সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের কোনো অধিকার রাখে না।’
বারাদার স্পষ্ট করে বলেন, ‘কোনো দেশই আফগানিস্তানের ভূমি বা সার্বভৌমত্বের প্রতি শত্রুপ্রবণ মনোভাব দেখাতে পারবে না এবং আফগান জনগণের ধৈর্যকে অবমূল্যায়ন করতে পারবে না।’ তিনি আরও জানান, ‘আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসন তাৎক্ষণিকভাবে মোকাবিলায় ইসলামিক আমিরাত প্রস্তুত রয়েছে।’
ইসলামিক আমিরাতের উপ–মুখপাত্র হামাদুল্লাহ ফিত্রত উল্লেখ করেন, বিশেষ কমান্ডো বাহিনীর উদ্দেশে উপ–প্রধানমন্ত্রী (অর্থবিষয়ক) বলেন—সীমান্ত রক্ষা, দুর্বৃত্ত শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা এবং দেশকে সুরক্ষা দেওয়া তোমাদের পবিত্র ও মৌলিক দায়িত্ব। তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানান, কেউ যেন আফগান সীমান্তের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন দৃষ্টি না দেয় এবং আমাদের সহনশীলতা আবারও যাচাই করার চেষ্টা না করে। ফিত্রত বলেন, আমরা কাউকেই আমাদের ভৌগোলিক সার্বভৌমত্বে অনধিকার প্রবেশের সুযোগ দেব না এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।
এদিকে, কাবুলের ৮ম জেলার একটি পাগড়ি প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজনকৃত সভায় অংশ নেওয়া ধর্মীয় নেতাদের একটি দলও পাকিস্তানি সামরিক শাসনব্যবস্থার আফগানিস্তানে আগ্রাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, ‘কোনো বিদেশি শক্তিই অতীতে আফগানিস্তান দখলে কখনোও সফল হয়নি ।’
পাকিস্তান গত সপ্তাহে পাকতিকা, খোস্ত ও কুনার প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালিয়েছে, যার কারণে এ বিষয়ে ইসলামিক আমিরাত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।
এলএইস/