সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ।। ১ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
‘২০ জুন থেকে ‘ঢাকা–নারিতা–ঢাকা’ রুটে বিমানের টিকিট বিক্রি শুরু হবে’  উপদেষ্টা ডা. জাহেদকে দিল্লি বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ গতিসীমা লঙ্ঘন ঠেকাতে মহাসড়কে থাকবে বিশেষ প্রযুক্তি: সেতুমন্ত্রী হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু মহিলা মাদরাসার দায়িত্বশীলদের করণীয় নিয়ে আলোচনা সভা বুধবার সিলেটে প্রবাসী মুস্তাফিজুর রহমানের একক অর্থায়নে মসজিদে-মসজিদে আইপিএস দান প্লিজ বিয়ের পর আর বিদেশ নয় হারামাইনে আরও আধুনিক ও মানসম্পন্ন সেবা নিশ্চিতের ঘোষণা লামুর নিঃশব্দ রাত: ইতিহাস, কবর আর এক বিদায়ের পদচিহ্ন চলে গেলেন বিশ্বখ্যাত ইসলামি অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ উমর চাপরা

নেতানিয়াহুকে বিশ্বাস করেন না অধিকাংশ ইসরায়েলি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রতি আস্থার ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন জরিপ বলছে, ইসরায়েলিদের বড় অংশই মনে করেন, নেতানিয়াহু দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

এর আগে গত মার্চে গাজা যুদ্ধবিরতির একটি সম্ভাবনা তৈরি হলেও নেতানিয়াহু তা প্রত্যাখ্যান করেন। ওই সময় অনেক বিশ্লেষক তার এই সিদ্ধান্তকে 'রাজনৈতিক আত্মহত্যা' বলেছিলেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতির যে চুক্তি হয়েছিল, তার আওতায় কয়েক ডজন জিম্মি মুক্তি পায় এবং বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদেরও মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর পরিকল্পনা ছিল আরও জিম্মি মুক্ত করা ও ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার। কিন্তু নেতানিয়াহু হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

তার এমন অবস্থানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ হয়েছেন জিম্মিদের পরিবারগুলো। তারা মনে করেন, নেতানিয়াহু স্বজনদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ইসরায়েলের দৈনিক মাআরিভ-এর এক জরিপে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ১২০ আসনের নেসেটে তার লিকুদ পার্টি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে পিছিয়ে পড়বে বলেও পূর্বাভাস মিলেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৯ শতাংশ ইসরায়েলি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে মত দিয়েছেন। আর ৪৯ শতাংশ মনে করেন, নেতানিয়াহু কেবল রাজনৈতিক স্বার্থেই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করছেন।

 
ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের সিনিয়র গবেষক অধ্যাপক তামার হারম্যান বলেন, “নেতানিয়াহু অত্যন্ত দক্ষ রাজনীতিক হলেও জনগণের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছেন। এতবার নিজের অবস্থান বদলানোর ফলে বেশিরভাগ ইসরায়েলি আর তাকে বিশ্বাস করেন না।”

হারম্যান আরও বলেন, আগাম নির্বাচন ডাকার ঝুঁকি নেতানিয়াহুর জন্য ইরান আক্রমণের ঝুঁকির চেয়েও বেশি। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যেতে পারে।

অনেক ইসরায়েলির অভিযোগ, নেতানিয়াহুর কারণে গাজার যুদ্ধ অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এতে শুধু বৈশ্বিক অবস্থান নয়, দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও সাবেক সেনা কর্মকর্তারা মনে করেন, আইডিএফ ইতোমধ্যে গাজায় সামরিক সাফল্যের সর্বোচ্চটা অর্জন করেছে।

এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলাকে ঘিরে নেতানিয়াহু নিজেকে সফল নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করলেও বাস্তবে তার জনপ্রিয়তা আশানুরূপ বাড়েনি।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ