সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬ ।। ১ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ওমরাহ পালনে রেকর্ড, পরিসংখ্যান জানালো সৌদি আরব সব ধর্ষণই সমান অপরাধ, ছোট-বড় সংজ্ঞা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসড়কে চলা অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: সংসদে মন্ত্রী মধ্যরাতের মধ্যে ১৩ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস সৌদি থেকে ফিরিয়ে আনা ওমরাহযাত্রীর মৃত্যু, ধর্মমন্ত্রীর শোক ‘২০ জুন থেকে ‘ঢাকা–নারিতা–ঢাকা’ রুটে বিমানের টিকিট বিক্রি শুরু হবে’  উপদেষ্টা ডা. জাহেদকে দিল্লি বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ গতিসীমা লঙ্ঘন ঠেকাতে মহাসড়কে থাকবে বিশেষ প্রযুক্তি: সেতুমন্ত্রী হাম ও উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ শিশুর মৃত্যু

নিউইয়র্কের সম্ভাব্য মেয়র মুসলিম তরুণ মামদানি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি মেয়র নির্বাচনের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে অ্যান্ড্রু কুমোকে হারিয়ে অভাবনীয় জয় পেয়েছেন স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য জোহরান মামদানি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটির মেয়র হওয়ার দৌড়ে তিনি অনেকটা এগিয়ে গেলেন।
 
২০২১ সালে যৌন হয়রানির অভিযোগে পদত্যাগ করার পর রাজনৈতিকভাবে ফিরতে চেয়েছিলেন অ্যান্ড্রু কুমো। তবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সাবেক এই গভর্নর এবার এক মুসলিম বামপন্থী তরুণের কাছে হার মানতে বাধ্য হলেন।

গত নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের দুই কক্ষেই জয় পাওয়ার পর ডেমোক্র্যাটদের জন্য মামদানির এ সাফল্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। তাদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের দিকনির্দেশনা হিসেবে এই মেয়র নির্বাচনকে দেখা হচ্ছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রাথমিক বাছাইয়ের ফলাফলে দেখা গেছে, মামদানি স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও সরাসরি জেতার জন্য প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট পাননি।

নিউইয়র্কের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে বড় অঘটন বলে মন্তব্য করেছেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ ট্রিপ ইয়াং। তার ভাষায়, ‘মামদানির জয় দেখিয়ে দিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে, তখন নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটরা এমন নেতৃত্ব চান, যাঁরা সাহস ও স্পষ্ট বার্তা নিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন।’

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুমো বলেছেন, নভেম্বরের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, এখনো ভাবছেন।

করোনা মহামারি চলাকালে গভর্নরের ভূমিকার জন্য সারা দেশে পরিচিত মুখ ছিলেন মধ্যপন্থী রাজনীতিবিদ কুমো। ক্ষমতাসীনদের কাছেও তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। অন্যদিকে মামদানি একেবারেই ভিন্ন রকমের মুখ। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে থাকা এই তরুণ এখন পর্যন্ত অনেকটাই অচেনা ছিলেন।

মামদানির জন্ম উগান্ডায়। মামদানির বয়স যখন সাত বছর, তখন তার পরিবার নিউইয়র্কে চলে আসে। তার নির্বাচনী প্রচারে দেখা গেছে উর্দু ভাষার ভিডিও, বলিউড সিনেমার ক্লিপ, এমনকি স্প্যানিশ ভাষায় দেওয়া নিজের ভাষণ। ফিলিস্তিনিদের প্রতি মামদানির প্রকাশ্য সমর্থন ও ইসরায়েলের সমালোচনা ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের বড় অংশের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি করে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় মামদানি কিছু ভিডিওর জন্য ভাইরাল হন। ওই সব ভিডিওতে ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ভোটারদের মুখোমুখি হয়ে তাদের এ অবস্থানের পেছনের কারণ জানার চেষ্টা করেন তিনি। প্রশ্ন করেন, কী কারণে তারা ট্রাম্পকে ভোট দেন এবং কী করলে তারা ডেমোক্র্যাটদের দিকে ফিরবেন।

মামদানির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বেশ উচ্চাভিলাষী। এসবের মধ্যে আছে, নগরবাসীর জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস, সর্বজনীন শিশুযত্ন, সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত বাসার ভাড়া বৃদ্ধি করতে না দেওয়া ও নগর কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মুদিদোকান চালানো। এসবের অর্থ জোগান দিতে ধনীদের ওপর নতুন কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ