শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
কক্সবাজারের আবাসিক হোটেল থেকে পুলিশের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার  কুরআন-হাদিসের আলোকে জামাতের গুরুত্ব গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের ইস্যুতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে বিরোধীদলীয় নেতার চিঠি বাংলাদেশ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে: বিদ্যুৎমন্ত্রী  দাওয়াতি কার্যক্রম গতিশীল ও সুসংগঠিত করার ওপর গুরুত্বারোপ সিলেটে ৩ হত্যাকাণ্ডে নিহত স্বামী-স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন হাফেজে কুরআনদের উৎসাহিত করতে মালদ্বীপ সরকারের নানা উদ্যোগ ১৫ আগস্ট কেন্দ্র করে ডিএমপির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগামীকালের জাতীয় উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন সফল করার আহ্বান জুলাই শহীদদের স্মরণে রংপুরে শায়খে চরমোনাইয়ের দোয়া ও ইসলাহি ইজতেমা

‘অপারেশন সিন্দুরে’ ভারতের পাশে ইসরাইল, পাকিস্তানের পাশে তুরস্ক!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

পাকিস্তান ও দেশটির অধ্যুষিত কাশ্মীরে অবস্থিত নয়টি স্থাপনায় ভারতের বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রকাশ্যে এলো ইসরাইলের সমর্থন। ভারত এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন সিন্দুর’। বুধবার এক্স-এ এক বার্তায় ভারতে নিযুক্ত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের জানা উচিত, তাদের জঘন্য অপরাধের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই। ইসরাইল ভারতের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে।’

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ভারতের এই হামলা পরিচালিত হয়। এর পেছনে সরাসরি প্রেক্ষাপট ছিল প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত একটি সন্ত্রাসী হামলা, যেখানে প্রাণ হারিয়েছিলেন ২৬ জন মানুষ। ওই হামলার জন্য ভারত পাকিস্তানকে দায়ী করছে, যদিও ইসলামাবাদ সেটা প্রত্যাখ্যান করেছে। এমনকি ভারতীয়দেরও অনেকে হামলার ধরণ ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধী দল কংগ্রেস দাবি করেছে, হামলার তিন দিন আগেই গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। 

ভারতীয় সেনা ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ জানিয়েছে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর ঘাঁটি চিহ্নিত করে অত্যন্ত পরিকল্পিত ও সীমিত পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে, যার লক্ষ্য ছিল কেবলমাত্র ‘জঙ্গি’ অবকাঠামো—না যে কোনও পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনা।

ইসরাইল ভারতের এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানালেও ভিন্ন সুরে কথা বলেছে তুরস্ক। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দারকে ফোন করে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ভারতের এই হামলাকে ‘অপ্রস্তুত আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেন। 

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, তুরস্ক এ সময় পাকিস্তানের প্রতি সংহতি জানায় এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে। দুই দেশ পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

নয়া দিল্লি স্পষ্ট জানিয়েছে, ‘অপারেশন সিন্দুর’ ছিল সম্পূর্ণভাবে সুনির্দিষ্ট, পরিমিত এবং উত্তেজনা না বাড়িয়ে ‘সন্ত্রাসের’ বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার প্রচেষ্টা। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ভারতের এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

এ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নিয়ে ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এটা লজ্জাজনক। আমরা এইমাত্র এটি সম্পর্কে শুনেছি। মানুষ অতীতের ওপর ভিত্তি করে জানত যে কিছু ঘটতে চলেছে। কারণ উভয় পক্ষই বহু দশক এবং শতাব্দী ধরে  লড়াই করে আসছে। তবে আমি আশা করি এটি খুব দ্রুত শেষ হবে।’

এদিকে পাকিস্তানে ভারতের হামলার প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নিয়ন্ত্রণ রেখা ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের সামরিক অভিযান নিয়ে মহাসচিব গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন। তিনি উভয় দেশকে সর্বোচ্চ সামরিক সংযম অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন।’

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ