আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন এবং পরিকল্পিত ইবাদতের মাধ্যমে সার্থক করতে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘প্রোডাক্টিভ রমজান সেমিনার ২০২৬’। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আফতাবনগরে অবস্থিত আস-সুন্নাহ অডিটোরিয়ামে এই ব্যতিক্রমী সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত চলে এই সেমিনার। এতে ছয় শতাধিক সচেতন মুসলিম নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ। তিনি ‘প্রোডাক্টিভ রমজানের পথনির্দেশনা’ শীর্ষক সেশন গ্রহণ করেন।
শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, ‘রমজান কেবল উপবাস থাকার নাম নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও সময়কে সর্বোচ্চ ইবাদতে বিনিয়োগ করার এক সুবর্ণ সুযোগ। প্রতি বছর রমজান আমাদের মাঝে আসে আবার চলে যায়, কিন্তু আমরা অধিকাংশ মানুষ রমাদানের প্রভূত কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হই। প্রোডাক্টিভ রমজান কাটাতে তিনি চারটি বিষয়ে পরামর্শ দেন : ১. গুনাহমুক্ত জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা ২. ইবাদতের পরিবেশ নিশ্চত করা ৩. যাবতীয় প্রতিবন্ধকতা দূর করা ৪. বেশি বেশি দোয়া করা।
এছাড়া তিনি ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত গবেষক আলেম, সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদবীর সিয়াম বিষয়ক এতিহাসিক কনসেপ্ট—রমজানের সিয়াম ও জীবনের সিয়ামের চমৎকৃত ব্যাখ্যা করেন।
এছাড়াও অন্যান্য নির্দিষ্ট টিপিকে সেশন নেন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞগণ।
সুস্থ শরীরে সিয়াম পালন : ডায়েট ও নিউট্রিশন শীর্ষক সেশনে প্রশিক্ষণ দেন ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট মুহাম্মদ সজল। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ ভুল খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত, যার ফলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ সময় ইবাদত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। সুস্থ শরীরে সিয়াম পালন নিশ্চিত করতে সঠিক ডায়েট ও নিউট্রিশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেহরিতে সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া পরিহার করা জরুরি। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চিত হবে এবং ইবাদতে মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।’
এছাড়া রমজান রোডম্যাপ ও সময় ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেন সাইকোলজিস্ট ফাহিম আব্দুল্লাহ, রমাদানের শরয়ী বিধান নিয়ে আলোকপাত করেন মুফতি লুকমান হাসান এবং যাকাত-সাদাকার গুরুত্ব, নিসাব ও ক্যালকুলেশন নিয়ে আলোচনা করেন মুফতি যুবায়ের আব্দুল্লাহ।
তাত্ত্বিক আলোচনা শোনার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা বিশেষজ্ঞদের সরাসরি সহায়তায় নিজস্ব রমজান রুটিন ডিজাইন করার সুযোগ পান। অংশগ্রহণকারীরা এমন সময়োপযোগী ও সৃজনশীল আয়োজনের জন্য আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং রমাদানকে প্রোডাক্টিভ ও পরিকল্পিত করার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।
এমএম/