রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬ ।। ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ৫ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :

শায়খ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীরকে (রহ.) মরণোত্তর সম্মাননা


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক, লেখক ও শিক্ষাবিদ শায়খ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ.-কে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। সৌদি আরবে উচ্চশিক্ষা অর্জনকারী বাংলাদেশি আলেমদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘সৌদিতে অধ্যয়নরত ও প্রাক্তন ছাত্রদের প্রীতি সম্মিলন-২০২৬’-এ তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী বাংলাদেশি আলেম ও গবেষকদের সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। প্রয়াত শাইখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.)-এর পক্ষে তাঁর ছেলে শাইখ উসামা খন্দকার সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন।

শাইখ আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (রহ.) ১৯৯৮ সালে সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মাদ ইবন সৌদ ইসলামিক ইউনিভার্সিটি থেকে আরবি সাহিত্য বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা, লেখালেখি, দাওয়াহ এবং সহিহ আকিদা প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তিনি দীর্ঘদিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার আল-হাদিস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে অধ্যাপনা করেন এবং পরবর্তীতে অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় বক্তা, দক্ষ গবেষক এবং বহুলপঠিত লেখক। কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিশুদ্ধ ইসলামের প্রচার, বিদআত ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং সহনশীল ও প্রজ্ঞাভিত্তিক দাওয়াহর জন্য তিনি দেশ-বিদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

বাংলা ভাষায় ইসলামি গবেষণাধর্মী সাহিত্য সমৃদ্ধ করতেও তাঁর অবদান অনন্য। আকিদা, হাদিস, ফিকহ, দাওয়াহ, আত্মশুদ্ধি ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে তাঁর রচিত অসংখ্য গ্রন্থ পাঠকমহলে সমাদৃত। সহজ-সরল ভাষা, প্রামাণ্য দলিলনির্ভর আলোচনা এবং ভারসাম্যপূর্ণ উপস্থাপনার কারণে তিনি সাধারণ পাঠক থেকে শুরু করে আলেম-উলামার কাছেও ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন।

২০১৬ সালের ১১ মে এক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে তাঁর রেখে যাওয়া জ্ঞানভিত্তিক কর্ম, গ্রন্থ এবং অসংখ্য অডিও-ভিডিও বক্তৃতা আজও ইসলামের বিশুদ্ধ জ্ঞান প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ