নিজস্ব প্রতিবেদক
কওমি মাদরাসা স্থাপনের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের উদ্যোগ থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ। সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা) বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ২০১৮ সালের কওমি মাদরাসা স্বীকৃতি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা, স্বাধীনতা ও ঐতিহ্যের পরিপন্থী।
রোববার (১২ জুলাই) এক বিবৃতিতে তিনি এ আহ্বান জানান। বিবৃতিতে আরও স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ূবী ও মাওলানা আলী আজম, মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকিম বিল্লাহ হামিদী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মেরাজুল হক মাজহারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬-এর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশের সব হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের লক্ষ্যে গত ৯ জুলাই একটি সভার আয়োজন করে। তবে কওমি মাদরাসাসমূহের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এবং এর অধীন ছয়টি বোর্ড ওই সভায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে।
তারা বলেন, দেশের কওমি মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দারুল উলুম দেওবন্দের শিক্ষাদর্শ অনুসরণ করে সরকারিভাবে কোনো অনুদান ছাড়াই পরিচালিত হয়ে আসছে। বিদ্যমান কওমি বোর্ডগুলো মাদরাসার নিবন্ধন, পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, পরিদর্শন ও সনদ প্রদানসহ যাবতীয় কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে। হেফজ বিভাগও এসব বোর্ডের অধীন একটি মৌলিক ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই পৃথক হাফেজিয়া বোর্ড গঠনের কোনো যৌক্তিকতা নেই।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ২০১৮ সালের কওমি মাদরাসা স্বীকৃতি আইনে কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান আইন বহাল রেখে পৃথক বোর্ড গঠন কিংবা নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে এবং এতে কওমি অঙ্গনে উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
বিবৃতিতে প্রস্তাব করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত যেসব স্বতন্ত্র হেফজখানা এখনো কোনো স্বীকৃত কওমি বোর্ডের অধিভুক্ত নয়, সেগুলোকে বিদ্যমান বোর্ডগুলোর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। নতুন কোনো পৃথক বোর্ড গঠনের পরিবর্তে বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যেই এ সমস্যার কার্যকর সমাধান সম্ভব।
শিক্ষক নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, পৃথক হাফেজিয়া বোর্ডের মাধ্যমে যদি হেফজ শিক্ষার সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে অন্যান্য বিষয় সংযুক্ত করা হয়, তাহলে কুরআন হিফজের প্রচলিত পদ্ধতি ব্যাহত হতে পারে। এতে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি হতে পারে।
সবশেষে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের পক্ষ থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, বিদ্যমান আইন, কওমি মাদরাসার স্বকীয়তা ও শতবর্ষের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রেখে কওমি মাদরাসা স্থাপনের নতুন নীতিমালা এবং হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকতে হবে।
আইও/