শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ।। ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ বেফাকের ৫০তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় নিবন্ধনের বিশেষ সুযোগ মসজিদে নববীতে নারীদের ইসলামি আলোচনার স্থান নির্ধারিত আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না: শায়খে চরমোনাই ‘ট্রান্সজেন্ডার’ নিয়ে বক্তব্যে তোপের মুখে শিক্ষামন্ত্রী, দিলেন ব্যাখ্যা আওয়ার ইসলামের জাতীয় সিরাত প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেন দুই সহস্রাধিক প্রতিযোগী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট: ইসলামী আন্দোলন আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক পুনর্জাগরণে গড়ে উঠতে পারে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র: ড. খালিদ হোসেন রূপপুরে দ্বিতীয় ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ শুরু মক্কায় ড্রোন ধ্বংসের দাবি, সৌদিকে মিথ্যাচারের অভিযোগ হুথিদের 

আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চাই না: শায়খে চরমোনাই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, আদর্শ বিসর্জন দিয়ে তাঁরা ক্ষমতায় যেতে চান না। তাদের লক্ষ্য শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং নীতির পরিবর্তন ও ইসলামী শরিয়াহ বাস্তবায়ন। বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো চুক্তিও মেনে নেওয়া হবে না।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিএমএ মিলনায়তনে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ষষ্ঠ নগর যুব সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও ইসলামী যুব আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু নেতার পরিবর্তন নয়, নীতির পরিবর্তন। তাদের উদ্দেশ্য ও দর্শন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে পথ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। শুধু ক্ষমতা অর্জন নয়, শরিয়াহ বাস্তবায়নই তাদের মূল লক্ষ্য। কেউ ক্ষমতায় গেলেন, কিন্তু শরিয়াহ বাস্তবায়ন করতে পারলেন না—তাহলে তিনি ব্যর্থ। অনেক নেতা তৈরি হলো, কিন্তু তাঁরা নীতিবিবর্জিত—এটিও ব্যর্থতা।

তিনি বলেন, ভোট বেশি পাওয়া বা কম পাওয়াই একজন আদর্শবাদী রাজনীতিবিদের সফলতার মাপকাঠি হতে পারে না। একজন আদর্শবাদী ব্যক্তির সফলতা নির্ভর করে তাঁর আদর্শ কতজন মানুষ গ্রহণ করছেন এবং তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছেন, তার ওপর।

ইসলামী আন্দোলনের আদর্শ বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি কবে বাস্তবায়িত হবে, তা জানা নেই। আজ, কাল কিংবা পরবর্তী প্রজন্মে—যখনই হোক, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যেতে হবে। বর্তমান প্রজন্ম এমন ভিত্তি তৈরি করবে, যার ওপর দাঁড়িয়ে পরবর্তী প্রজন্ম আরও এগিয়ে যেতে পারবে। কোনো অবস্থাতেই আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করা যাবে না। ব্যক্তির ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়ে ইসলাম ও শরিয়াহকে প্রতিষ্ঠিত করাই মূল লক্ষ্য হতে হবে।

দেশে ট্রান্সজেন্ডার বিষয়ক আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর জানার কথা। না জানলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি বোঝার ব্যবস্থা করা উচিত। বাংলাদেশের মুসলমানরা ট্রান্সজেন্ডার আইন বাস্তবায়ন করতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফয়জুল করীম বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। খুন, ধর্ষণ ও গুমের ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবিধান সম্পর্কে জ্ঞান থাকার পাশাপাশি নিজের দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। এমনকি ব্যবহার না করেও অনেক গ্রাহককে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।

জাপানের সঙ্গে প্রস্তাবিত চুক্তি প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, এ চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটুকু এবং ভারতের স্বার্থ কতটুকু, তা জনগণকে জানাতে হবে। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা না করে ভারতের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হলে সে চুক্তি মেনে নেওয়া হবে না। দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো চুক্তি করা যাবে না। এমন উদ্যোগ নেওয়া হলে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

মাদরাসা শিক্ষা নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে মাদরাসা শিক্ষাকে ধ্বংসের চেষ্টা চলছে। কোনো একটি জায়গায় অপরাধের ঘটনা ঘটলে তা এমনভাবে প্রচার করা হয়, যেন সব অপরাধের সঙ্গে মাদরাসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই জড়িত। অপরাধের অবশ্যই বিচার হতে হবে এবং অপরাধীকে শাস্তি দিতে হবে। তবে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায়ে কোনো গোষ্ঠী, মাদরাসা বা প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান এবং আসন্ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলটির মেয়রপ্রার্থী শেখ ফজলুল করীম মারুফ। প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতি মানসুর আহমদ সাকী।

বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সদস্য আলহাজ আব্দুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) মুফতি শেখ ইহতেশাম বিল্লাহ আজিজী, ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি এম এইচ মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা এবং কেন্দ্রীয় প্রবাসী কল্যাণ উপকমিটির সদস্য ও মহানগর দক্ষিণের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ ইমদাদুল ফেরদৌস।

সম্মেলনে আগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে শওকত ওসমান, সহসভাপতি হিসেবে মোহাম্মদ রায়হান উদ্দিন মিনা এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কে এম নাসির উদ্দিনের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 এমএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ