নিজস্ব প্রতিবেদক
আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেকে যোগ্য করে তুলতে পারলে সুখী সমাজ ও বঞ্চনামুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, মানুষের অন্তর পরিশুদ্ধ হলে, চরিত্র সুন্দর হলে এবং ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ন্যায়, সততা ও দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠিত হলে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা অসম্ভব নয়। এ লক্ষ্য অর্জন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম আয়োজিত ইসলাহী ইজতেমায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের অন্যতম প্রবীণ আলেম ও সুফি সাধক মাওলানা রশীদুর রহমান ফারুকের আমন্ত্রণে এ ইজতেমায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ হয়েছে জানিয়ে ড. খালিদ হোসেন বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা শায়খুল মাশায়েখ আল্লামা হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)-এর বিশিষ্ট খলিফা শায়খ সুফি মাওলানা লুৎফুর রহমান বর্ণভী (রহ.)-এর জীবনদর্শন ও কর্মসাধনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ঈমান-আমলের সংশোধন, আত্মশুদ্ধি, দ্বীনের দাওয়াত, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং মানবকল্যাণ।
তিনি বলেন, বর্ণভী (রহ.) আজীবন মানুষকে মতভেদ ও বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য, সংঘাত ও বিদ্বেষের পরিবর্তে শান্তি ও সম্প্রীতির শিক্ষা দিয়েছেন। সংকীর্ণ ব্যক্তিস্বার্থ ও গোষ্ঠীগত বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর দ্বীনি কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর অনুসারীদের মধ্যেও এ আদর্শ ছড়িয়ে দিয়েছেন।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, বর্ণভী (রহ.)-এর আত্মশুদ্ধি, মানবপ্রেম ও ঐক্যের দর্শনের প্রতি গভীর অনুরাগের এক অনন্য দৃশ্যপট হয়ে উঠেছিল পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। তাঁর অনুসারী, ভক্ত ও অনুরক্তদের জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল এবং আধ্যাত্মিক আবহে মুখর হয়ে ওঠে ইজতেমার বিশাল প্রাঙ্গণ। সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ আয়োজনে সমবেত হন।
তিনি আরও বলেন, এ আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় সমাবেশ নয়; বরং আত্মশুদ্ধি, নৈতিক পুনর্জাগরণ, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের চেতনায় সমাজকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার এক মহতী প্রয়াস। ব্যক্তি ও সমাজের নৈতিক পরিবর্তন ছাড়া একটি সুন্দর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই আত্মশুদ্ধি ও আত্মগঠনের চর্চাকে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ছড়িয়ে দিতে হবে।
এমএম/