রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৬ রবিউস সানি ১৪৪৮


‘বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের বাণিজ্য ও রপ্তানি খাতে বিদেশি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসসহ গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি খাতকে বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দিয়ে দেশের রপ্তানিমুখী বাণিজ্যকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বাদ জুমা চট্টগ্রামের সিআরবি মাঠে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিরসন এবং গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগর আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মামুনুল হক বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে ২০২৪ সালের ‘৩৬ জুলাই’ বাংলাদেশের মানুষ নতুনভাবে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে শুধু আওয়ামী লীগের ক্ষমতার অবসান হয়নি, বাংলাদেশ থেকে আধিপত্যবাদের শেকড়ও উপড়ে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, সীমান্তের বাইরে থেকে পরাজিত শক্তির অপতৎপরতা আবারও শুরু হয়েছে। এসব অপতৎপরতা মোকাবিলা করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

সরকারের সাত মাস পূর্ণ হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তো সাত মাস পর্যন্ত লংমার্চের জন্য অপেক্ষা করেছি। কিন্তু আপনারা গণভোটের পর দেশের জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করতে সাত দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেন না।” ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে যে মহাঐক্য গড়ে উঠেছিল, সময়ের সঙ্গে তা ধ্বংস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসনকে দলীয়করণমুক্ত করার অঙ্গীকার ছিল।

তিনি বলেন, পরিবর্তন না করা হলে এই সংবিধান আর এই ব্যবস্থার অধীনে যেই ব্যাটা ক্ষমতায় যাবে, দুই-চার বছর পরে সে আরেকটা হাসিনায় পরিণত হবে।

বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতের প্রসঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, আপনারা সিন্ডিকেট করে আজকে বাংলাদেশের এনার্জি সেক্টর—বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস—এগুলোকে ভিনদেশি আরেক শক্তির হাতে তুলে দিয়ে বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী বাণিজ্যকে ধ্বংস করে দেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ, ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে দিল্লির যে আধিপত্যকে বাংলার মাটি থেকে উৎখাত করেছে, সেই আধিপত্য নতুন করে বাংলার মাটিতে ফিরে আসতে দেওয়া হবে না, ইনশাআল্লাহ।

তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে মামুনুল হক বলেন, আপনি যদি হাসিনার পথে পা বাড়ান, আমরা বাংলাদেশের মানুষ আপনার সঙ্গে হাসিনার মতো আচরণ করতে এতটুকু কার্পণ্য করব না—মনে রাখবেন।

তিনি সরকারকে রাজপথে গড়ে ওঠা ঐক্যের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জুলাই আন্দোলনের অভিপ্রায় বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি মাওলানা এমদাদুল্লাহ সুহাইল। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আলী উসমান। প্রধান বক্তা ছিলেন মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমাদ।

এ ছাড়া আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আবু সাইদ নোমান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির এবং বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ