শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
ইসলামী আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটিতে রয়েছেন যারা দেশের ৬ অঞ্চলে ঝড়ের আভাস সোনারগাঁওয়ের গণঐক্যই ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ: আমিরে মজলিস হেফাজতের আপত্তিকে ‘গঠনমূলক পরামর্শ’ হিসেবে দেখছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে বৈঠক হাদিস শিক্ষায় উচ্চতর প্রশিক্ষণে তুরস্কের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শামায়েল নদভীর চুক্তি কুমিল্লায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজপালনকারীদের নিয়ে স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত নেপালের বন্যায় ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার ৯৭ বছরের বৃদ্ধা নিজ উপজেলায় সংবর্ধনা পেলেন বিশ্বজয়ী হাফেজ জাকারিয়া নেত্রকোনার বিরিশিরিতে আঞ্চলিক কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

সোনারগাঁওয়ের গণঐক্যই ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ: আমিরে মজলিস

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল সোনারগাঁওয়ের রয়েল রিসোর্টে তাকে ঘিরে সংঘটিত হামলা ও ষড়যন্ত্র ছিল পরিকল্পিত। তবে দল-মতনির্বিশেষে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণঐক্য সেদিন সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়েছিল। এই গণঐক্যই ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রক্ষাকবচ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সাহসী জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা, দীর্ঘদিন জেল-জুলুম ও হয়রানির শিকার মজলুমদের সম্মাননা এবং বীর শহীদ মাওলানা ইকবাল হোসাইন (রহ.)-এর স্মরণে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সেদিন কোনো পূর্বঘোষণা বা পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই হাজার হাজার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেখানে ছুটে এসেছিলেন। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ দেশপ্রেমিক ও ইসলামপ্রেমী মানুষও সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তাই সেদিনের গণঐক্যকে কোনো একটি দলের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা হলে ওই জনতার অবদানকে অসম্মান করা হবে।

তিনি বলেন, তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে তার মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল। পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন ষড়যন্ত্রকারীরাই তার সহযোগিতা চায়। জনগণকে শান্ত করতে তিনি ফেসবুক লাইভে কথা বলতে চাইলেও অ্যাকাউন্ট বন্ধ থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলে বিক্ষুব্ধ জনতার সামনে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন তিনি।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘সোনারগাঁওয়ে ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত যে দল-মতনিরপেক্ষ গণঐক্য গড়ে উঠেছিল, সেটিই বাংলাদেশের রক্ষাকবচ। দেশের স্বার্থে ও ইসলামের স্বার্থে এই ঐক্য আমাদের রক্ষা করতে হবে।’

তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই। সরকারি দল ও বিরোধী দল যার যার দায়িত্ব পালন করবে। তবে দেশ ও ইসলামের স্বার্থে দলীয় সংকীর্ণতা মানুষকে বিভক্ত করতে পারে না। কোনো দেশপ্রেমিক বা ইসলামপ্রেমী মানুষ আক্রান্ত হলে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে তার পাশে দাঁড়াতে হবে।

সোনারগাঁওয়ের ঘটনার পর মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সোনারগাঁও, গজারিয়া, বন্দর, রূপগঞ্জ, আড়াইহাজার ও সিদ্ধিরগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আলেম-ওলামা ও সাধারণ মানুষকে মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। এতে অনেকের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পেশাগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি এসব মজলুম মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

বীর শহীদ মাওলানা ইকবাল হোসাইন (রহ.)-এর স্মরণে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি শাহাদাতবরণ করেছেন। কারাগারে থাকায় তাঁর শাহাদাতের সংবাদও যথাসময়ে জানতে দেওয়া হয়নি। এ সময় তিনি শহীদ ইকবাল হোসাইন (রহ.)-এর আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, কারাগারে থাকা অবস্থায়ও তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। যাদের মামলা পরিচালনার মতো কেউ ছিল না, তাদের মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নিতে আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এখনো কেউ মামলা-মোকদ্দমা বা ২০২১ সালের ঘটনার কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হলে তারা যেন নিজেদের একা মনে না করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজনৈতিক পরিচয় ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু বড় পরিচয় হলো—আমরা ঈমানি ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ, আমরা দেশপ্রেমিক, আমরা ইসলামপ্রেমিক। এই পরিচয়েই আমরা সব মজলুম ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, ঐক্যবদ্ধ আছি এবং আগামী দিনেও ঐক্যবদ্ধ থাকব, ইনশাআল্লাহ।’

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাহসী জনগণ ও মজলুমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমিরে মজলিস দীর্ঘদিন পর তাদের সঙ্গে সরাসরি মিলিত হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অতীতে অনেকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি মাওলানা উবায়দুল কাদের নদভীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদুল্লাহ, বিএনপির নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক ও জেলা প্রশাসক মামুন মাহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মুসা ও নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি মাওলানা মামুনুর রশীদসহ অনেকে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ