দেশে কার্যকর বিচারব্যবস্থার অনুপস্থিতির কারণে প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম, জালিয়াতি ও খুনসহ বিভিন্ন অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে মনে করে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, বনশ্রীতে নিষ্ঠুরভাবে ফাতেমা আক্তার হত্যাকাণ্ড এবং প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনাগুলো রাষ্ট্রীয় বিচারব্যবস্থার চরম অবনতির বহিঃপ্রকাশ।
নেতৃদ্বয় বলেন, একদিকে নারীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় খুন ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, অন্যদিকে চাকরির পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের মাধ্যমে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ সমাজের নৈতিক ও মেধাগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। অপরাধীরা নিশ্চিতভাবেই জানে, এই দেশে অপরাধের উপযুক্ত শাস্তি নেই; আছে কেবল বিচারহীনতার সংস্কৃতি।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, বনশ্রীতে ফাতেমা আক্তার হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে রাষ্ট্র নাগরিকের জীবন রক্ষায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ। একইভাবে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস প্রমাণ করে, রাষ্ট্র মেধা ও ন্যায়ের পরিবর্তে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় তারা বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ফলে হাজার হাজার সৎ ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারাচ্ছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, বিচারহীনতা আজ আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিতে পরিণত হয়েছে। খুনিরা যেমন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, তেমনি প্রশ্নফাঁসের মূল হোতারাও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে বারবার অপরাধ সংঘটিত করছে। এ দায় সরকার ও প্রশাসন কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
বিবৃতিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ অবিলম্বে বনশ্রীতে ফাতেমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল খুনির দ্রুত গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানায়। একই সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের সাথে জড়িত সিন্ডিকেট, পৃষ্ঠপোষক ও সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করার দাবি জানানো হয়।
অন্যথায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ মনে করে, এই বিচারহীনতা আরও হত্যাকাণ্ড ও প্রশ্নফাঁসের জন্ম দেবে, যা রাষ্ট্র ও সমাজকে অনিবার্যভাবে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে।