রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


আঞ্জুমানে হেফাজতের ইজতেমা: দুটি কথা ও একটি আশা!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

|| মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী || 

বরুণার সাথে আমার হৃদয়ের সম্পর্ক। বলতে গেলে সম্পর্কটা আজন্ম। অনেক কষ্ট হলেও যদি কোনভাবে সুযোগ পাই বরুণার নিসবতের প্রোগ্রামে যেতে আমি আত্মিক প্রশান্তি অনুভব করি।

গত শুক্রবার ছিল 'সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের আজিমুশ্বান ইসলাহী ইজতিমা'।

এসব মজমায় আমি কখনোই বয়ান করতে চাই না। বয়ান করতে যাইও না। আত্মার খোরাক নিতে যাই। বরুণীদের সেই মায়াবী সুরের দরূদ পাঠ থেকে দরদী কথা সবই হৃদয়ে নাড়া দেয়। নতুন করে নিজেকে গোনাহমুক্ত বানাতে প্রত্যয়ী করে।

বিশাল মজমায় মঞ্চে উঠার কিছুক্ষণ পরই মাওলানা ফয়জুল্লাহ সাহেব এবং সাহেবজাদায়ে মাওলানা রশীদুর রহমান ফারূক পীর সাহেব বরুণার আদেশে দুই মিনিট সময় দেয়া হল।

আমি যা বলেছিলাম বা বলতে চেয়েছিলাম: আমার মরহুম আব্বাজান মাওলানা আব্দুর রহমান ফরায়েজী রহ. আমার নাম 'লুৎফুর রহমান' রেখেছিলেন 'শায়েখে বরুণী 'লুৎফুর রহমান বর্ণবী রহ" এর নামানুসারে।

আব্বা যখন ঢাকা আলিয়ায় পড়তেন। তখন লালবাগ মাদরাসায় গিয়ে সদর সাহেব রহঃ এর দরসে বসতেন। তখনই দেখেছিলেন 'শায়েখে তরীকত লুৎফুর রহমান বর্ণবী রহঃ কে। ফখরে বাঙ্গাল আল্লামা তাজুল ইসলাম রহঃ এবং আল্লামা শামসুল হক ফরীদপুরী রহঃ এর ভালোবাসা এবং স্নেহ দেখেই বুঝেছিলেন সিলেট থেকে আসা মানুষটা কোন সাধারণ মানুষ নয়। তাই নিজের মনের মনিকোঠায় সন্তানের নাম এ নামের বরকতে রাখার হয়তো নিয়ত করেছিলেন।

আব্বা বলতেন, বড় হয়ে এই বুযুর্গের মত হতে হবে। ছোটকালে বুঝতাম না কে ছিলেন তিনি?

নাম রাখার কারণেই হোক, আর যে কারণেই হোক বরুণা মানেই আমার হৃদয়ে অন্যরকম অনুভূতি। অন্যরকম এক ভালোবাসা।

আমার প্রত্যাশা। ঢাকায় অনেকেই আসে আবার চলে যায়। যারা কেবল আসার জন্য আসে। কিন্তু আমি দোয়া করি ও প্রত্যাশা করি। বরুণার যে ইসলাহি কাফেলা রাজধানীতে প্রবেশ করেছে, তা এসেই চলে যাবে না। ছেয়ে যাবে। বিস্তৃত হবে। শুধু ঢাকা নয় পুরো দেশেই আলো ছড়াবে। দেশ পেড়িয়ে পৃথিবীব্যাপী এ নূরের ঝলক ছড়িয়ে পড়ুক আমার হৃদয়ের দোয়া এমনি।

লেখক: পরিচালক-তালীমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ঢাকা  


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ