সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮


নবম পে-স্কেল অনুমোদন, দ্বিগুণ হচ্ছে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিন ধাপে নতুন এ বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম পে-স্কেল অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বনিম্ন ১০০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে। বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখেই এ বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে।

নতুন পে-স্কেলে গ্রেড-১-এর সর্বোচ্চ মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। আর ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন হবে ২০ হাজার টাকা। এর ফলে সর্বনিম্ন বেতনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৮ হাজার ২৫০ টাকার তুলনায় তা প্রায় আড়াই গুণে উন্নীত হচ্ছে।

নবম পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন একটি সুবিধাও যুক্ত হচ্ছে। প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু করা হচ্ছে। এ ভাতার আওতায় মাসে ৩ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

একই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য ‘যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী-২০২৬’ অনুমোদন করা হয়েছে।

নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠনের পর কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করে। সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানকে চেয়ারম্যান করে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়। চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশন প্রতিবেদন জমা দেয়।

কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছিল।

পরে কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নের সুপারিশ চূড়ান্ত করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল গঠিত ওই কমিটি নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে। নবম বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর পেছনে বর্তমানে বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেশি।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন কাঠামোয় থাকা সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়েই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন তিনি।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ