রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬ ।। ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ পোশাক শ্রমিকদের নতুন বেতন নির্ধারণে মজুরি বোর্ড ঘোষণা নির্মাণ শেষেও তালাবদ্ধ খিলগাঁও কবরস্থান মসজিদ, খুলে দেওয়ার দাবি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মক্কার আকাশে উড়ছে ‘হারামের কবুতর’ ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুরে আজও পোশাকশ্রমিকদের অবরোধ হিজাব পরেই আইন পেশায়, আজ তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম হিজাবি বিচারক নুসুক অ্যাপে প্রতিদিন মিলবে ওমরাহ জয়ের সুযোগ, সঙ্গে জমজমের পানি আশরাফ ফাউন্ডেশনের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে ইসলাহি মাহফিল আজ শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ ইউসুফ (আ.)-এর জামা থেকে তিন শিক্ষা তুলে ধরলেন মসজিদে নববীর খতিব

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মক্কার আকাশে উড়ছে ‘হারামের কবুতর’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কার আকাশ, মসজিদুল হারামের আঙিনা ও বিভিন্ন ভবনের ছাদে উড়ে বেড়াচ্ছে অসংখ্য কবুতর। নগরীটির ঐতিহ্য ও জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা এসব কবুতর হাজি, ওমরাহযাত্রী ও দর্শনার্থীদের কাছেও পরিচিত এক দৃশ্য।

স্থানীয়ভাবে এসব কবুতর ‘হামামুল হিমা’ (হারামের কবুতর) এবং ‘হামামু রব্বিল বাইত’ (কাবাঘরের প্রতিপালকের কবুতর) নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে পবিত্র নগরীর শান্তি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে পাখিগুলো। তাদের উপস্থিতি মক্কার অতীত ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমান জনজীবনের এক নিবিড় যোগসূত্র তৈরি করেছে।

মক্কার ইতিহাসে এসব কবুতরের গুরুত্ব কেবল মসজিদুল হারামকেন্দ্রিক পরিচিত দৃশ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ধর্মীয় বিধান, আইন ও স্থানীয় সংস্কৃতিতেও রয়েছে তাদের বিশেষ অবস্থান। পবিত্র হারাম এলাকার সীমানার মধ্যে বন্যপ্রাণী শিকার ও বিরক্ত করার ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও ঐতিহাসিক বিভিন্ন গ্রন্থে উঠে এসেছে।

মক্কার প্রাচীন ইতিহাসবিদ আবু আল-ওয়ালিদ আল-আজরাকি তাঁর ‘আখবারু মক্কা’ গ্রন্থে হারাম এলাকার প্রাণীদের সুরক্ষায় ইসলামী আইনশাস্ত্রের বিভিন্ন বিধান লিপিবদ্ধ করেছেন। আরেক ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ আল-ফাকিহি তাঁর লেখায় এসব কবুতরকে ঘিরে সাহিত্য, কবিতা ও স্থানীয় সংস্কৃতির নানা তথ্য তুলে ধরেছেন।

এক শতাব্দীরও বেশি আগে মক্কায় কবুতরের ব্যাপক উপস্থিতির বিবরণ পাওয়া যায় পর্যটকদের ভ্রমণবৃত্তান্তেও। ১৯১১ সালে প্রকাশিত মিসরীয় ইতিহাসবিদ মুহাম্মদ আল-বাতনুনির ‘আর-রিহলাতুল হিজাজিয়্যাহ’ গ্রন্থে মসজিদুল হারামের আঙিনা, ছাদ ও খিলানযুক্ত প্রবেশপথে অসংখ্য কবুতরের অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, মুসল্লিরা এসব পাখির জন্য খাবার ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতেন। এতে বোঝা যায়, কবুতরকে খাবার ও পানি দেওয়ার রীতিও মক্কার জনজীবনে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত।

নগরীর পরিবেশের সঙ্গে সহজে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে কবুতরগুলো এখনো সেখানে টিকে আছে। বিভিন্ন ভবনের কার্নিশ ও ছাদে তারা বাসা বাঁধে। অন্যদিকে খোলা চত্বর ও প্রশস্ত জায়গাগুলো তাদের খাবার সংগ্রহ ও বিচরণের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে।

বিশেষ করে মসজিদুল হারামের আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গায় দলবেঁধে কবুতরের উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য হাজিদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। অনেক দর্শনার্থীর কাছে পবিত্র নগরীর ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশাপাশি আকাশজুড়ে কবুতরের উড়াউড়িও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে। হাজিদের তোলা ছবি ও ভ্রমণবৃত্তান্তেও প্রায়ই দেখা যায় এসব কবুতরের উপস্থিতি।

তবে কবুতরের এই দীর্ঘদিনের সহাবস্থান বজায় রাখতে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত কাজ করছে মক্কা নগর কর্তৃপক্ষ। কবুতরের বিচরণস্থল হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন চত্বর ও চলাচলের পথ পরিষ্কার করা, পানি দিয়ে ধোয়া এবং পড়ে থাকা খাবার সরিয়ে নেওয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা।

প্রাচীন ইতিহাসবিদদের বিবরণ থেকে শুরু করে বর্তমান হাজিদের ক্যামেরায় ধারণ করা দৃশ্য—সবখানেই মক্কার এই কবুতরগুলো পবিত্র নগরীর দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে আছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের উপস্থিতি মক্কার ঐতিহাসিক স্মৃতি ও সমকালীন জীবনের মধ্যে এক স্বতন্ত্র সংযোগ তৈরি করে রেখেছে।

সূত্র: আরব নিউজ

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ