সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

আন্দোলনের ডাকের মুখে কলকাতায় মসজিদে নামাজে নিষেধাজ্ঞা


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সংলগ্ন ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদে নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিক্ষোভের ডাককে ঘিরে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় ভারতীয় ন্যায় সংহীতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) জারি করেছে প্রশাসন।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী মসজিদে নামাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে রাজপথে নামার আহ্বান জানান। তার এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিমানবন্দর এলাকার বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামানও। বিরাটি ও বাঁকড়া এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।

বিধাননগর পুলিশ সকাল থেকে মাইকিং করে জানায়, ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকায় এলাকায় চারজনের বেশি মানুষের একত্রে জমায়েত নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে গৌরীপুর জামে মসজিদের প্রবেশপথ ও আশপাশে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। অবাঞ্ছিত কাউকে সেখানে অবস্থান করতে দিচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

প্রায় ১৩৬ বছরের পুরোনো গৌরীপুর জামে মসজিদ, যা স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত, কলকাতা বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে অবস্থিত। দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে মসজিদটি অন্যত্র স্থানান্তরের পরিকল্পনা করেছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এ কারণে ইতোমধ্যেই সেখানে নামাজ আদায় বন্ধ রাখা হয়েছে।

এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এএআই) বলছে, বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে মসজিদটি স্থানান্তর প্রয়োজন। তাদের দাবি, মসজিদটি দ্বিতীয় রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থান করছে, যেখানে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী রানওয়ে থেকে যেকোনো স্থায়ী স্থাপনার ন্যূনতম দূরত্ব ২৪০ মিটার হওয়া উচিত।

কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, নামাজ আদায়ের জন্য আগত ব্যক্তিদের বিমানবন্দরে প্রবেশের কোনো আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা পাস ইস্যু করা হয় না। আধার কার্ড দেখিয়ে তারা রানওয়ের নিকটবর্তী এলাকায় প্রবেশ করেন, যা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে বলে দাবি তাদের।

অন্যদিকে, মসজিদে নামাজ বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্থানীয় মুসল্লি ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহাসিক মসজিদে ইবাদত বন্ধ করে দেওয়া ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা-সমালোচনা তীব্র হয়েছে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ