সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬ ।। ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিশ্বজয়ী দুই হাফেজকে বরণ করলো আওয়ার ইসলাম ​আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাক্ষ্য দিলেন সাধারণআলেম সমাজের মুখপাত্র  খাদিজা (রা.) ও বরকতময় সংসার গুম-খুনের শিকারদের জন্য হচ্ছে আলাদা অধিদপ্তর মুন্সিগঞ্জে পুকুরে ডুবে দুই চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু মাছের উৎপাদন বাড়াতে হবে, মানের সঙ্গে আপস নয়: কৃষিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র দাখিল করলেন জহির উদ্দিন স্বপন কওমি শিক্ষার্থীদের আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩ বিষয়ে পড়ার সুযোগ হেফাজতের সন্দেহ দূর করতে আলেম-উলামাদের সঙ্গে কথা বলব: ধর্ম প্রতিমন্ত্রী লিংকন রাহুল গান্ধীর সভায় ১০ কোটি রুপি খরচের অভিযোগ বিজেপির

আল-আমিন— সবার বিশ্বাসের মানুষ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: এআই

|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||

দাদা নামায পড়তে মসজিদে গিয়েছেন। নাতি-নাতনিরা উঠোনে পাটি বিছিয়ে বসে পড়েছে। অপেক্ষা করছে দাদার জন্য। আর নিজেদের মধ্যে নবী জীবনী নিয়ে আলোচনা করছে।

এমতাবস্থায় দাদা এসে সালাম দিলেন- আসসালামু আলাইকুম!

নাতি-নাতনিরা একসাথে উত্তর দিল, ওয়া আলাইকুমুস সালাম!

দাদা মুচকি হেসে বললেন, আচ্ছা দাদু ভাইয়েরা, বলো তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ কী?

নাতিদের কেউ বলল, ''অনেক টাকা!'' কেউ বলল, "বড় বাড়ি!"

দাদা মুচকি হেসে মাথা নাড়লেন, না রে সোনামণিরা, মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো 'বিশ্বাস'। আর এই বিশ্বাসই অর্জন করেছিলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

দাদা বললেন, তখনো তিনি নবী হননি। মক্কার ব্যস্ত বাজারে প্রতিদিন মানুষ কেনাবেচা করছে, দূর-দূরান্তে কাফেলা যাচ্ছে, ব্যবসা-বাণিজ্য চলছে। সেই শহরে একটি নাম সবার মুখে মুখে— মুহাম্মদ।

তিনি ধনী ছিলেন না, কোনো রাজপরিবারেরও সন্তান ছিলেন না। তবু সবাই তাঁকে এক নামে চিনত— আল-আমিন, অর্থাৎ যিনি সবচেয়ে বিশ্বস্ত।

শৈশব থেকেই তিনি কখনো মিথ্যা বলতেন না। কারও সঙ্গে প্রতারণা করতেন না। কেউ তাঁর হাতে কোনো জিনিস রেখে নিশ্চিন্তে চলে যেত। কারণ, সবাই জানত মুহাম্মদের কাছে রাখা আমানত কখনো নষ্ট হবে না।

একবার কি হয়েছিল জানো? কাবা শরিফ পুনর্নির্মাণের সময় বড় বিপদ দেখা দিল। হাজরে আসওয়াদ কে বসাবে— এ নিয়ে গোত্রে গোত্রে তীব্র ঝগড়া শুরু হলো। মনে হচ্ছিল, যেকোনো মুহূর্তে রক্তপাত শুরু হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত সবাই সিদ্ধান্ত নিল, "সবার আগে যে ব্যক্তি কাবায় প্রবেশ করবেন, তিনিই বিচার করবেন।"

কিছুক্ষণ পর একজন ভেতরে এলেন। তাঁকে দেখেই সবাই আনন্দে বলে উঠল, "এ তো আল-আমিন! আমরা তাঁর সিদ্ধান্ত মেনে নেব।"

মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি চাদর বিছিয়ে তার ওপর হাজরে আসওয়াদ রাখলেন। সব গোত্রের নেতাদের দিয়ে চাদর ধরালেন। সবাই মিলে পাথরটি তুলে আনল। তারপর তিনি নিজ হাতে সেটি যথাস্থানে স্থাপন করলেন। এক মুহূর্তেই বড় একটি সংঘাত শেষ হয়ে গেল।

দাদা একটু থামলেন। তারপর বললেন, দেখলে তো, সত্যবাদী মানুষকে শুধু বন্ধু নয়, শত্রুরাও বিশ্বাস করে। তাই জীবনে এমন মানুষ হও, যার কথা শুনে সবাই নিশ্চিন্ত হতে পারে। কারণ, সত্যবাদিতা ও আমানতদারি এমন গুণ, যা মানুষের হৃদয়ে চিরস্থায়ী সম্মান এনে দেয়।

এরপর দাদা মুচকি হেসে বললেন, ঠিক আছে, আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল তোমাদের শোনাব প্রিয়নবীর জীবনের আরেকটি গল্প। এজন্য সবাইকে অপেক্ষা করতে হবে।

চলবে.....

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ