|| মাওলানা মুহাম্মাদ বুরহানুদ্দীন বিন সাদ ||
বিয়ে মানবজীবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। শরীয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে সহীহ হওয়ার জন্য কিছু মৌলিক শর্ত রয়েছে। যেগুলোর কোনো একটি ছুটে গেলে শরীয়তের দৃষ্টিতে বিয়ে শুদ্ধ বলে গণ্য হবে না। সেসব শর্তের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো— “ইত্তিহাদুল মজলিস” অর্থাৎ, দু’জন সাক্ষী বিয়ের মজলিসে উপস্থিত থেকে বিয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি (ইজাব-কবুল) শোনা। এ ক্ষেত্রে ছেলে বা ছেলের প্রতিনিধি এবং মেয়ে বা মেয়ের প্রতিনিধি উভয়ের কথা একই স্থানে উপস্থিত থেকে শ্রবণ করা আবশ্যক।
বিশিষ্ট ফকীহ ইমাম কাসানী রহ. (মৃত্যু: ৫৮৭ হি.) লিখেছেন,
وأما الذي يرجع إلى مكان العقد فهو اتحاد المجلس إذا كان العاقدان حاضرين وهو أن يكون الإيجاب والقبول في مجلس واحد حتى لو اختلف المجلس لا ينعقد النكاح.
অর্থ: বিয়ের অন্যতম শর্ত হলো— বর-কনে উভয়ে উপস্থিত থাকলে ইজাব-কবুলের মজলিস এক হওয়া। সুতরাং মজলিস ভিন্ন হয়ে গেলে নিকাহ সংঘটিত হবে না।”– (বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩)
উপরোক্ত মূলনীতির আলোকে বর-কনে যদি পৃথক স্থানে অবস্থান করে ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি ইজাব-কবুল করে এবং উভয় প্রান্তে পৃথক পৃথক সাক্ষীও থাকে এবং সাক্ষী তাদের কথা শুনেও, তাহলেও এতে বিয়ে সংঘটিত হবে না। কেননা, এতে “ইত্তিহাদুল মজলিস” (মজলিসের একতা)-এর শর্তটি ছুটে যায়।
সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটি (আল-লাজনাতুদ্দায়িমাহ লিল-ইফতা)-এর ফতোয়াও এমন। তারা বলে, সরাসরি টেলিফোন বা মোবাইলে বিয়ে বৈধ হবে না। (ফাতাওয়া লাজনাতিদ দায়িমাহ ১৮/৯১)
তবে বর-কনের কোনো একজন যদি বিয়ের আকদের মজলিসে উপস্থিত না থাকে, তাহলে এক্ষেত্রে বিয়ের পদ্ধতি হলো, তার পক্ষ থেকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করার জন্য সে কাউকে প্রতিনিধি বানাবে। আর প্রতিনিধি বানানোর কাজ সে মোবাইলের মাধ্যমেও করতে পারবে। এভাবে কাউকে প্রতিনিধি বানানোর পর ওই প্রতিনিধি সাক্ষীদের সামনে তার পক্ষ থেকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করবে। যেমন, মেয়ের অভিভাবক মেয়ে থেকে ইযন (অর্থাৎ বিয়ের অনুমতি) নিয়ে আসার পর বিয়ের মজলিসে বিদেশে বা দূরে অবস্থানরত বরের প্রতিনিধির কাছে এভাবে প্রস্তাব দেবে যে, আমি অমুককে (কনের নাম, পিতার নাম ও সুস্পষ্ট পরিচয় উল্লেখ করে) আপনার মুওয়াক্কিল অমুকের (পাত্রের নাম, পিতার নাম ও সুস্পষ্ট পরিচয় উল্লেখ করে) কাছে এত টাকা মহরের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছি। আপনি কি তার পক্ষ থেকে সম্মত আছেন? তখন বরের প্রতিনিধি বলবে, আমি আমার মুওয়াক্কিল অমুকের পক্ষ থেকে কবুল করলাম। এভাবে প্রতিনিধির মাধ্যমে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে এ বিয়ে সহীহ হবে।
মোটকথা, ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি বিয়ে সম্পাদন করা সহীহ হবে না। এক্ষেত্রে বর-কনের কেউ দূরে অবস্থান করলে সরাসরি ভিডিও কলের মাধ্যমে ইজাব-কবুল না করে তার পক্ষ থেকে একজন ওয়াকিল (প্রতিনিধি) নিযুক্ত করে একই মজলিসে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করে বিয়ে সম্পাদন করবে। এ পদ্ধতিতেই বিয়ের প্রয়োজনীয় শর্তগুলো যথাযথভাবে পূরণ হবে।
(বাদায়েউস সানায়ে ২/২৩; ২/২৫৫; শরহুল জামিইস সগীর-কাযী খান ২/৫১০; আল বাহরুর রায়েক ৩/৮৯; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/২৬৯; আদ দুররুল মুখতার ৩/২১; রদ্দুল মুহতার ৩/১৪; ৩/২২)
লেখক: উস্তাযুল হাদীস, জামিয়া ইসলামিয়া দারুল ঈমান, নতুন বাজার, সদর, চাঁদপুর।
আইও/