শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ৪ রমজান ১৪৪৭


 যে ৭ কারণে রোজা ভেঙে যায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

নাজমুল হাসান

রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। একজন মুমিন সারাদিন পানাহার ও কামনা-বাসনা থেকে বিরত থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করেন। কিন্তু অজ্ঞতা বা অসতর্কতার কারণে এমন কিছু কাজ হয়ে যায়, যা রোজা নষ্ট করে দেয়। তাই রোজা ভঙ্গের কারণগুলো জানা প্রত্যেক রোজাদারের জন্য জরুরি।

আল্লাহ তাআলা কুরআনে ইরশাদ করেন—

فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ... ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ

‘…আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ভোরের শুভ্র রেখা রাতের কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। এরপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৮৭)

এই আয়াতে রোজার মৌলিক বিধান তুলে ধরা হয়েছে। হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা আরও স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। নিচে রোজা ভঙ্গের ৭টি কারণ তুলে ধরা হলো—

১. স্ত্রী সহবাস

  • রোজা অবস্থায় সহবাস করা সবচেয়ে গুরুতর অপরাধ। এর ফলে—
  • কবিরা গুনাহ হয়; তওবা আবশ্যক
  • রোজা বাতিল
  • দিনের বাকি সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হবে
  • পরবর্তীতে কাজা আদায় করতে হবে
  • কাফ্ফারা দিতে হবে (দাস মুক্ত করা; না পারলে টানা দুই মাস রোজা; তাও সম্ভব না হলে ৬০ জন মিসকিনকে আহার করানো)

হাদিসে এসেছে—

‘এক ব্যক্তি রমজানে স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করে নবীজির কাছে এ বিষয়ে জানতে এলো… তিনি বললেন: দাস মুক্ত করতে পারবে? সে বলল: না। তিনি বললেন: টানা দুই মাস রোজা রাখতে পারবে? সে বলল: না। তিনি বললেন: তাহলে ৬০ জন মিসকিনকে খাওয়াও।’ (সহিহ বুখারি: ১৯৩৬; সহিহ মুসলিম: ১১১১)

২. ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত

  • চুম্বন, স্পর্শ বা হস্তমৈথুনের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত হলে রোজা ভেঙে যায়।
  • সে কুদসিতে এসেছে—
  • ‘সে আমার জন্য তার পানাহার ও কামনা-বাসনা ত্যাগ করে।’ (সহিহ বুখারি: ১৮৯৪)

তবে চুম্বন বা স্পর্শে বীর্যপাত না হলে রোজা ভাঙবে না। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন—

‘নবী (সা.) রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুম্বন করতেন; তবে তিনি কামনাকে নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে সক্ষম ছিলেন।’

(সহিহ বুখারি: ১৮৯৪; সহিহ মুসলিম: ১১৫১)

৩. ইচ্ছাকৃত পানাহার

খাদ্য বা পানীয় ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যায়। আল্লাহ বলেন—

‘…তোমরা পানাহার করো… এরপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ কর।’ (সুরা আল-বাকারা: ১৮৭)

জুর সময় নাকে অতিরিক্ত পানি টেনে নেওয়া থেকেও রোজাদারকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

‘অজুতে নাকে ভালোভাবে পানি দাও, তবে রোজাদার হলে তা করবে না।’ (আবু দাউদ: ২৩৬৬)

৪. খাদ্যের বিকল্প গ্রহণ

  • দুই ধরনের বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত—
  • রক্ত সঞ্চালন (যদি তা পুষ্টির বিকল্প হয়)
  • পুষ্টিকর স্যালাইন বা ইনজেকশন, যা খাদ্য-পানীয়ের বিকল্প

এগুলো গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যাবে। তবে সাধারণ ইনজেকশন, যা খাদ্যের বিকল্প নয়, তা দ্বারা রোজা ভঙ্গ হবে না।

৫. সিঙ্গা (হিজামা) দ্বারা রক্ত বের করা

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

‘সিঙ্গা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী— উভয়ের রোজা ভেঙে যায়।’ (আবু দাউদ: ২৩৬৭)

৬. ইচ্ছাকৃত বমি

হাদিসে এসেছে—

‘যার অনিচ্ছাকৃত বমি হয়েছে, তার কাজা নেই। আর যে ইচ্ছাকৃত বমি করেছে, সে যেন কাজা আদায় করে।’ (তিরমিজি: ৭২০; আবু দাউদ: ২৩৮০)

অতএব ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোজা ভেঙে যাবে; অনিচ্ছাকৃত হলে ভাঙবে না।

৭. হায়েজ ও নেফাস

নারীর ঋতুস্রাব বা সন্তান প্রসবজনিত রক্তস্রাব শুরু হলে রোজা ভেঙে যায়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন—

‘নারীর যখন হায়েজ হয়, তখন সে নামাজ ও রোজা পালন করে না— তাই নয় কি?’ (সহিহ বুখারি: ৩০৪)

হায়েজ বা নেফাস দিনের যে সময়েই শুরু হোক, রোজা ভেঙে যাবে। তবে সূর্যাস্তের পর রক্ত শুরু হলে সে দিনের রোজা শুদ্ধ থাকবে।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ