রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
আয়াতে শিফা : রোগমুক্তির ছয়টি আয়াত মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখতে রুখতে হবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: রাহমানী বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দৃশ্য দেখে কেঁদেছিলেন সোনিয়া গান্ধী! পাঁচ হিজাবি নারীর যুক্তরাষ্ট্র জয়! পোশাকশ্রমিকদের মানসম্মত জীবনযাপনের উপযোগী মজুরি দিন: পীর সাহেব চরমোনাই আস-সুন্নাহয় ইসলামিক স্কলার শায়খ আব্দুল কাইয়ূমের নাসিহা প্রোগ্রাম শনিবার এক যুগ পর মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকী হত্যায় ৬ আসামির বিচার শুরু লন্ডনে আল্লামা কাশ্মীরির নাতির সান্নিধ্যে রমজানে ১১ পণ্যের এলসি খোলার শর্ত শিথিল করল বাংলাদেশ ব্যাংক ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল আরও ৩ জনের, হাসপাতালে ভর্তি ২৩৩৩

মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখতে রুখতে হবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: রাহমানী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতে মুসলমানদের নামাজ আদায়, মসজিদে যাতায়াত ও ঈদ উদ্‌যাপনে বাধা না দিলেও তাদের স্বতন্ত্র ইসলামি সংস্কৃতি ও জীবনাচার থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানী। তিনি বলেছেন, আপাতদৃষ্টিতে ছোট মনে হলেও এসব উদ্যোগের সুদূরপ্রসারী পরিণতি হতে পারে। সময় থাকতে এই সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের প্রবণতা রুখে দাঁড়ানো জরুরি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানী বলেন, ভারতে বর্তমানে এমন একটি প্রবণতা জোরালো হচ্ছে, যেখানে মুসলমানদের নামাজ, মসজিদে যাতায়াত ও ঈদুল ফিতর-ঈদুল আজহা পালনে আপত্তি না থাকলেও তাদের ইসলামি সংস্কৃতি ও স্বতন্ত্র পরিচয় পরিত্যাগে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে। এ লক্ষ্যে আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হয়—এমন নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষাক্রমে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। হিন্দুধর্মকে ধর্মীয় বিশ্বাস ও মতাদর্শের পরিবর্তে জাতীয় সংস্কৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেবদেবীর মূর্তি স্থাপন করা হচ্ছে। হিন্দু ধর্মীয় উৎসবে মুসলমানদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে এবং মুসলিম তরুণদেরও দীপাবলি ও হোলির মতো উৎসবে আগ্রহ নিয়ে অংশ নিতে দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পোশাক-পরিচ্ছদ, বিয়েশাদি ও সামাজিক রীতিনীতিতেও হিন্দু সংস্কৃতির প্রভাব বাড়ছে। কোনো কোনো অঞ্চলে মুসলিম নারীরা হিন্দু রীতিতে সিঁদুর পরছেন কিংবা কালো পুঁতির মালা ব্যবহার করছেন। আন্তধর্মীয় বিয়ের প্রবণতাও বাড়ছে। কোথাও কোথাও মুসলিম শিশুদের হিন্দি নাম রাখা হচ্ছে। টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও হিন্দুত্বের প্রভাব বাড়ছে। হিন্দু দেবদেবী ও শাসকদের জাতীয় বীর হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

এসব পরিবর্তন সমাজে নীরবে এগিয়ে চলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন হয়তো অনেকেই এর পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন না। কিন্তু সময় থাকতে পরিস্থিতি অনুধাবন করতে না পারলে ভবিষ্যতে অপূরণীয় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ রাহমানীর মতে, এটি কেবল রাজনৈতিক বা সাংস্কৃতিক বিষয় নয়; বরং মুসলিম উম্মাহর অস্তিত্ব ও ধর্মীয় স্বাতন্ত্র্য রক্ষার প্রশ্ন। তাই মুসলমানদের স্বতন্ত্র ইসলামী সংস্কৃতি ও জীবনাচার থেকে বিচ্যুত করার এই প্রবণতা শক্তভাবে প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। সূত্র: ইউএনএ নিউজ

এসএইচ/  


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ