বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ২ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৬ রবিউস সানি ১৪৪৮


মুসলমানরা সব বিষয়ে আপস করতে পারে, ধর্ম ও ঈমানে নয়: আরশাদ মাদানী

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটশাসিত ২১টি রাজ্যে ২০২৯ সালের আগে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বাস্তবায়নের ঘোষণার সমালোচনা করেছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি মাওলানা আরশাদ মাদানী। তিনি বলেছেন, মুসলমানরা অনেক বিষয়ে আপস করতে পারে, তবে ধর্ম ও ঈমানের বিষয়ে আপস করতে পারে না।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা দেন, ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই এনডিএশাসিত ২১টি রাজ্যে ইউসিসি বাস্তবায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি রাজ্যে ইউসিসি চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ ঘোষণার পর এনডিএর শরিকরা সমর্থন জানালেও বিরোধী দল ও কয়েকটি মুসলিম সংগঠন এর সমালোচনা করেছে।

অমিত শাহের ঘোষণার প্রসঙ্গ তুলে আরশাদ মাদানি প্রশ্ন করেন, ‘দেশ সংবিধান অনুযায়ী পরিচালিত হবে, নাকি কোনো রাজনৈতিক দলের আদর্শিক কর্মসূচি অনুযায়ী?’

ইউসিসি বাস্তবায়নকে সংবিধানের সর্বোচ্চ মর্যাদা ও নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ দেশের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে চায়।

ইউসিসির বিরুদ্ধে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টে মামলা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত ছয়টি শুনানি হয়েছে। সংগঠনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কপিল সিবালসহ অন্য আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত হয়েছেন।

ইসলামি ব্যক্তিগত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন মেনে নেওয়া হবে না উল্লেখ করে আরশাদ মাদানী বলেন, ‘আমরা শরিয়তবিরোধী কোনো আইন মেনে নিতে পারি না। মুসলমানরা সব বিষয়ে আপস করতে পারে, কিন্তু তারা ধর্ম ও ঈমানের বিষয়ে কখনো আপস করতে পারে না।’

তিনি বলেন, বিষয়টি শুধু মুসলমানদের অস্তিত্বের প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে তাদের সাংবিধানিক ও ধর্মীয় অধিকারও জড়িত। ইউসিসির মাধ্যমে সংবিধানপ্রদত্ত এসব অধিকার সীমিত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মুসলিম পারিবারিক আইন কোরআন ও হাদিসভিত্তিক উল্লেখ করে জমিয়ত সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, যারা কোনো ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইন অনুসরণ করতে চান না, তাদের জন্য দেশে বিকল্প দেওয়ানি আইন থাকলে বাধ্যতামূলক অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রয়োজন কেন।

সংবিধানের ২৫ ও ২৬ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, ইউসিসি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তা কীভাবে রক্ষা করা হবে—এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তফসিলি উপজাতিদের ইউসিসি থেকে অব্যাহতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মাদানী বলেন, মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতার সাংবিধানিক অধিকারও একইভাবে সম্মান করা উচিত।

ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হলো রাষ্ট্রের নিজস্ব কোনো ধর্ম থাকবে না এবং নাগরিকরা নিজেদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা ভোগ করবে। তাই ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে এমন কোনো অভিন্ন দেওয়ানি বিধি মুসলমানদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

‘এক দেশ, এক আইন’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আরশাদ মাদানী। তাঁর দাবি, ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে আইন ও তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। গরু জবাইসংক্রান্ত আইনও সব রাজ্যে এক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধির উদ্দেশ্য নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে মাদানী বলেন, এর মাধ্যমে নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার সীমিত হতে পারে।

অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসির মাধ্যমে ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও দত্তকসহ ব্যক্তিগত আইনসংক্রান্ত বিষয়ে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উত্তরাখণ্ড প্রথম রাজ্য হিসেবে ইউসিসি আইন পাস করে তা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করেছে।

সূত্র: মুসলিম মিরর

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ