বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ৫ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
মাদরাসায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে কী বলছেন চিন্তাশীল আলেমরা পশ্চিমবঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ’, ‘জাজাকাল্লাহ’ বলে বিপাকে পুলিশ কর্মকর্তা কুমিল্লা আইনজীবী সমিতিতে ইসলামী আইনজীবী পরিষদের মতবিনিময় চামড়া শিল্পে ইতালির বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গে মধ্যরাতে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাংলাভাষী মুসলিমদের! হারামাইনের নিরাপত্তা সব রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে: পীর সাহেব চরমোনাই মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টায় বাংলাদেশের নিন্দা ফতোয়া ও আত্মশুদ্ধির ময়দানে মুফতি সাঈদ আহমদ রহ. সৌদিতে ১৩০০ বছরের পুরনো মসজিদের সন্ধান, দেয়ালে নবীজির নাম মক্কার নিরাপত্তা ও পবিত্রতার প্রতি হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়: জমিয়ত

পশ্চিমবঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ’, ‘জাজাকাল্লাহ’ বলে বিপাকে পুলিশ কর্মকর্তা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষার্থীদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে উৎসাহ দিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশের পর বদলি করা হয়েছে আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানুকে। তিনি খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট পদে বদলি করা হয়। সরকারি আদেশে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থের’ কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ সেপ্টেম্বর এক্সে প্রকাশিত ভিডিওতে বুশরা বানু তার ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেনশিয়াল কোচিং একাডেমি তাকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে কীভাবে সহায়তা করেছিল, সে কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে বই, মক টেস্টসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা উল্লেখ করে অন্য শিক্ষার্থীদেরও ওই একাডেমির সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

ভিডিওর শুরুতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ এবং বক্তব্যের মধ্যে ‘ইনশাআল্লাহ’, শেষে ‘জাজাকাল্লাহ’ বলায় কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী আপত্তি তোলেন। ‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগও করে। সংগঠনটির অভিযোগ ছিল, সরকারি পদে থাকা একজন কর্মকর্তার জনসম্মুখের যোগাযোগে ধর্মীয় অভিব্যক্তির পরিবর্তে নিরপেক্ষ ও জাতীয় অভিব্যক্তি ব্যবহার করা উচিত।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই বুশরা বানুকে খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের পদ থেকে সরিয়ে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়। তবে সরকারি আদেশে তার ভিডিও বা ওই অভিযোগকে বদলির কারণ হিসেবে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি।

বদলির ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কিছু ব্যক্তি তার ব্যবহৃত সম্ভাষণ ও শব্দচয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, সমালোচনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাদের বক্তব্য, একজন সরকারি কর্মকর্তা ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় অভিব্যক্তির কিছু শব্দ ব্যবহার করলেই তা সরকারি নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—এ বিষয়টি নিয়ে আরও স্পষ্ট আলোচনা প্রয়োজন।

ঘটনাটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত ও পেশাগত বক্তব্যের সীমা, ধর্মীয় অভিব্যক্তি এবং সরকারি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার প্রশ্নও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ