আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জুলুম-নিপীড়নের বিপরীতে ন্যায় ও সাম্যের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শিক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, সিরাতুন্নবী (সা.)-এর আলোচনা ও আয়োজনের মাধ্যমে মানবতার জন্য মহানবী (সা.) যে শান্তি, ন্যায় ও সাম্যের বার্তা নিয়ে এসেছিলেন, তা নতুন করে স্মরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ইসলামাবাদে আয়োজিত ‘সিরাতে রহমাতুল্লিল আলামিন (সা.) ও পয়গামে জমিয়ত’ কনভেনশনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা ফজলুর রহমান বলেন, মহানবী (সা.)-এর সিরাত মানবতার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আদর্শ। তাঁর শিক্ষা হলো—জুলুম ও অন্যায়ের পরিবর্তে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। সিরাতুন্নবী (সা.)-এর মাহফিল ও সমাবেশের মাধ্যমে সেই মহান শিক্ষা মানুষের সামনে নতুন করে তুলে ধরা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের দায়িত্ব সফলতা বা ব্যর্থতার হিসাব করা নয়; বরং নিজেদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা এবং নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। মহানবী (সা.)-এর আদর্শ সামনে রেখে মানুষের কল্যাণ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যেতে হবে।
মাওলানা ফজলুর রহমান একই সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, সংবিধানকে দুর্বল করা, সংসদকে পাশ কাটিয়ে আইন প্রণয়ন এবং প্রদেশগুলোর সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার পরিণতি গুরুতর হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সংসদকে পাশ কাটিয়ে আইন প্রণয়ন করা সংবিধান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। রাষ্ট্র পরিচালনায় সংবিধানের মর্যাদা ও সংসদের ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি।
১৮তম সাংবিধানিক সংশোধনী প্রসঙ্গে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের এ নেতা বলেন, ১৮তম সংশোধনী কিছু মহলের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে রয়েছে। তবে ন্যাশনাল ফাইন্যান্স কমিশন (এনএফসি) অ্যাওয়ার্ডের আওতায় প্রদেশগুলোর কাছে যে সম্পদ ও আর্থিক অধিকার হস্তান্তর করা হয়েছে, তাতে কোনো ধরনের কাটছাঁট করা উচিত নয়।
তিনি প্রদেশগুলোর সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা ও ঐক্যের স্বার্থে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। সূত্র: রোজনামায়ে জং
আরএইচ/