বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
তরুণ আলেমদের বিশেষ মিটআপে শায়খ ইলিয়াস গুম্মান তিন মাসে ওমরাহ পালন করেছেন দেড় কোটির বেশি মানুষ বিভেদ, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ কোনো জাতিকে শক্তিশালী করে না: রাষ্ট্রপতি সিলেটে হাম উপসর্গে এক শিশুর মৃত্যু বরুড়ায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত পরিষদের উদ্যোগে সিরাত সম্মেলন ২৭ আগস্ট কলকাতায় আরও ২০০ হোটেল বন্ধের নোটিশ রুহামা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে জাতীয় সীরাত কনফারেন্স আগামীকাল ‘সিরাতুন্নবীর আলোকে দেশ পরিচালনা করলেই জুলাইয়ের প্রত্যাশা পূরণ হবে’ সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকাতে কঠোর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ‘মহানবীর (সা.) আদর্শে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ে তোলার অঙ্গীকার করি’

মুসলিম প্রতিবেশীর ওমরাহর স্বপ্ন পূরণে কুরআন প্রতিযোগিতায় খ্রিস্টান যুবক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ফ্রি ওমরাহর পুরস্কার জিতেছেন মিসরের মিনা নামে এক খ্রিস্টান যুবক। তবে নিজের জন্য নয়, দীর্ঘদিনের মুসলিম প্রতিবেশীর ওমরাহ পালনের স্বপ্ন পূরণ করতেই তিনি প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।

মিসরের ইসলামি আলোচক ড. আইমান আবু ওমরের পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লাইভ অনুষ্ঠান থেকে মিনা জানতে পারেন, তার প্রতিবেশী উম আলী বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ পেতে একটি কোরআনবিষয়ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

মিনা বলেন, ‘আমি খ্রিস্টান। কিন্তু আমি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম আমার প্রতিবেশীকে ওমরাহর পুরস্কারটি পেতে সহায়তা করার জন্য।’

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি শুরুতেই উম আলীকে জানান মিনা। তিনি তাকে বলেন, উম আলী নিজে পুরস্কার জিততে না পারলেও তার হয়ে তিনি পুরস্কারটি জেতার চেষ্টা করবেন।

পুরস্কার জয়ের জন্য প্রতিযোগিতায় ৫০ থেকে ৬০ বারের বেশি সঠিক উত্তর জমা দেন মিনা। শেষ পর্যন্ত তার প্রচেষ্টা সফল হয় এবং তিনি বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগের পুরস্কার জিতে নেন।

পুরস্কার জয়ের পর মিনা সেটি তার মুসলিম প্রতিবেশী উম আলীকে দেওয়ার কথা জানান। খবরটি শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উম আলী।

উম আলী বলেন, ওমরাহ পালন তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। শারীরিকভাবে ভ্রমণ ও স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করার সক্ষমতা থাকা অবস্থায় পবিত্র এই সফরে যেতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আল্লাহর কাছে দোয়া করে আসছিলেন।

মিনা জানান, উম আলীকে সুখবরটি দেওয়ার পর তিনি তাকে চোখের পানি মুছতে দেখেন। মিনা বলেন, ‘আমি জানতাম না, ওমরাহ এতটা আনন্দের কারণ হতে পারে।’

জানা গেছে, দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পাশাপাশি বসবাস করছে দুই পরিবার। দীর্ঘদিনের প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক ধীরে ধীরে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতায় রূপ নিয়েছে। খ্রিস্টান হলেও মিনা উম আলীকে নিজের বড় বোনের মতো মনে করেন। একইভাবে উম আলীর মা-বাবার প্রতিও তিনি পরিবারের সদস্যদের মতো সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করেন।

ঘটনাটি মিসরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মুসলিম প্রতিবেশীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে মিনার এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন অনেকে। তাদের মতে, ধর্মীয় ভিন্নতা সত্ত্বেও প্রতিবেশীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও মানবিকতার যে সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে, মিনা ও উম আলীর ঘটনা তারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।

সূত্র: গালফ নিউজ

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ