ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের দায়ে গ্রেপ্তার হওয়া এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) তাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তেহরান। এটি কার্যকর হলে বর্তমান গণআন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিক্ষোভকারীর প্রথম ফাঁসির ঘটনা হবে এটি। তবে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। খবর ফক্স নিউজের।
মানবাধিকার সংস্থা আইএইচআরএনজিও এবং এনইউএফডি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে কারাজ শহর থেকে বিক্ষোভ চলাকালে সোলতানিকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার’ মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে, যা ইরানে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। সোলতানির পরিবারকে জানানো হয়েছে যে ১৪ জানুয়ারি তার সাজা কার্যকর হবে। অভিযোগ রয়েছে, গ্রেপ্তারের পর তাকে কোনো আইনজীবীর সহায়তা নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি।
সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, বিক্ষোভ দমনে তেহরানের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার আন্দোলনকারী, যারা এখন শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। সোলতানির প্রাণ রক্ষায় ‘তার কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুন’ স্লোগানে সরব হয়েছে অধিকার কর্মীরা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে দ্বিধা করবে না। হোয়াইট হাউস নিশ্চিত করেছে, ইরানের ওপর সম্ভাব্য বোমা হামলার বিষয়টিও এখন মার্কিন প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে তেহরানের রাস্তায় সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালানো তিনি বরদাস্ত করবেন না।
আরএইচ/