শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৮ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩ রুপসায় ইসলামী আন্দোলনের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম ‘বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করা ধর্মীয় ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার পরিপন্থী’ মানুষ গড়ার প্রথম প্রতিষ্ঠান মসজিদ: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি সড়কে প্রাণ হারানো কুরআন শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন নোয়াখালীতে ইসলামি মহাসমাবেশ কাল, অতিথির তালিকায় রয়েছেন যাঁরা মেলায় আল-ওয়াসির আকর্ষণীয় অফার, প্রি-রেজিস্ট্রেশনেই মিলছে বিশেষ গিফট বক্স ‘জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি সরকারের জন্য শুভকর হবে না’

প্রথম ধূমপানমুক্ত দেশ হতে যাচ্ছে সুইডেন!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সুইডেন ধূমপানমুক্ত দেশ গড়ার ইতিহাসের শীর্ষে রয়েছে। ২০০৫ সালে এখানকার দৈনিক ধূমপায়ীদের হার ছিল ১৫ শতাংশ। তবে গতকাল তা রেকর্ড লাফ দিয়ে নেমে এসেছে মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশে। চলতি বছরে এই হার আরও কমে ৫ শতাংশের নিচে চলে গেছে। ইউরোপে এতো কম ধূমপায়ী আর কোন দেশ নেই।

গালফ নিউজের রিপোর্ট অনুযায়ী, যেখানে প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ৫ শতাংশের কম ধূমপান করে, সে দেশকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করে। সুইডেন এখন সেই লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে।

এখনো বলা যায়, ইউরোপের দেশের এই অনন্য সাফল্য একদিনে আসেনি। এতে রয়েছে গত দুই দশকে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা, ধূমপানের ক্ষতির প্রচার এবং তুলনামূলক কম ক্ষতিকর বিকল্প, যেমন প্রচলিত স্নাস ও তামাকবিহীন নিকোটিন পাউচের ব্যবহার।

সুইডেনে মানুষের হাতে স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে নিকোটিন গ্রহণের ধরন স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেখানে নিকোটিনকে প্রধান সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয় না, বরং ধূমপানের ধরনের উপর গুরুত্ব দেয়। এই কারণে গত দশকে দেশটিতে ধূমপানের হার ৫৫ শতাংশ কমেছে। এই সময়ের মধ্যে পুরুষদের মধ্যে তামাকজনিত মৃত্যুর হার ৩৮ শতাংশ এবং ফুসফুসের ক্যান্সারের হার ৪১ শতাংশ কমে গেছে।

গুরুতর বিষয় হলো, সুইডেন ইউরোপের একমাত্র দেশ যেখানে নিকোটিন পাউচের বাণিজ্যিক অনুমোদন রয়েছে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ১৮ শতাংশ মানুষ এটি ব্যবহার করছে, যা কম ক্ষতিকর বিকল্পের দিকে জনগণের মনোভাবের পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।

সুইডেনের এই মডেলের বিশেষত্ব হলো—ধূমপানের হার কমানোর পাশাপাশি এটি একটি বাস্তবসম্মত এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। কঠোর নিষেধাজ্ঞার বদলে কম ক্ষতিকর বিকল্পের মাধ্যমে, বিশেষ করে নিকোটিন পাউচ ব্যবহারের সাহায্যে ধূমপান কমানো সম্ভব হয়েছে। যদিও এই বিকল্পগুলি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়, তবে ধূমপানের ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে।

‘স্নাস’ নামক একটি পণ্য ধূমপায়ীদের সংখ্যা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এটি কাগজের ভেতরে তামাক ভরা একটি বস্তু, যা মুখের ভেতরে রেখে ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুইডেনের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে সচেতনতা, বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি এবং বিকল্প ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত পরিবর্তন সম্ভব।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ