শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৮ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩ রুপসায় ইসলামী আন্দোলনের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম ‘বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করা ধর্মীয় ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার পরিপন্থী’ মানুষ গড়ার প্রথম প্রতিষ্ঠান মসজিদ: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি সড়কে প্রাণ হারানো কুরআন শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন নোয়াখালীতে ইসলামি মহাসমাবেশ কাল, অতিথির তালিকায় রয়েছেন যাঁরা মেলায় আল-ওয়াসির আকর্ষণীয় অফার, প্রি-রেজিস্ট্রেশনেই মিলছে বিশেষ গিফট বক্স ‘জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি সরকারের জন্য শুভকর হবে না’

মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত সুদানের এল-ফাশার, ৮৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সুদানের উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী এল-ফাশার এখন এক মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) শহরটি দখল করার পর সেখানে শুরু হয়েছে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, শহরে শত শত নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছে। নারীরা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন, ঘরবাড়ি ও শরণার্থী ক্যাম্পে আগুন দেওয়া হয়েছে।

একসময় প্রাণবন্ত এল-ফাশার এখন এক ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপ। স্থানীয় হাসপাতাল, স্কুল, এমনকি আশ্রয়কেন্দ্রও আরএসএফের হামলা থেকে রেহাই পায়নি। শুধু একটি হাসপাতালেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫০০ মানুষ, জানিয়েছে আলজাজিরা ও আনাদোলু।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, আরএসএফ গত মাসে এল-ফাশার দখল করার পর থেকে ‘নৃশংস হামলা’ আরও বেড়েছে।

সুদানে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিনিধি লি ফাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন,

“এল-ফাশার এখন শোকের শহর। ১৮ মাস ধরে যুদ্ধ ও অবরোধে টিকে থাকা বেসামরিক নাগরিকরা অকল্পনীয় নৃশংসতার শিকার হচ্ছে।”

সহায়তাকারী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, এল-ফাশার থেকে পালিয়ে আসা হাজারো মানুষ এখন তাওয়িলা শহরে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয়ের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, গত সপ্তাহে এল-ফাশার থেকে আরও ৭,০০০ বেসামরিক নাগরিক পালিয়ে গেছে।
২৬ অক্টোবর শহরটি আরএসএফের দখলে যাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

আইওএমের তথ্যমতে, ৫ থেকে ৮ নভেম্বরের মধ্যে ৭,০৭৫ জন নতুন করে স্থানচ্যুত হয়েছে, যারা উত্তর দারফুরের তাওয়িলা, মেলিট ও সারাফ ওমরার মতো এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। দখলের আগে এল-ফাশারের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার।


ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক গবেষণাগার তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানায়, স্যাটেলাইট চিত্রে এল-ফাশারে ‘গণহত্যার প্রমাণ’ পাওয়া গেছে। সেখানে রক্তের দাগ, পোড়া ঘরবাড়ি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো দৃশ্যমান।

“এল-ফাশারে আটকে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের শহর ছাড়তে বাধা দেওয়া হচ্ছে। হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ ও জাতিগত সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।”

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানে সেনাবাহিনী (এসএএফ) ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফ-এর মধ্যে ক্ষমতা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হয়। তা এখন পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, আর দেড় কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
জাতিসংঘ এই পরিস্থিতিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

এনএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ