শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬ ।। ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৮ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা দেখতে নিজেই গাড়ি চালিয়ে সড়ক পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৫৩ রুপসায় ইসলামী আন্দোলনের তৃণমূল প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম ‘বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করা ধর্মীয় ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার পরিপন্থী’ মানুষ গড়ার প্রথম প্রতিষ্ঠান মসজিদ: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি সড়কে প্রাণ হারানো কুরআন শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন নোয়াখালীতে ইসলামি মহাসমাবেশ কাল, অতিথির তালিকায় রয়েছেন যাঁরা মেলায় আল-ওয়াসির আকর্ষণীয় অফার, প্রি-রেজিস্ট্রেশনেই মিলছে বিশেষ গিফট বক্স ‘জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি সরকারের জন্য শুভকর হবে না’

 দক্ষিণ চীন সাগরে আধাঘণ্টার ব্যবধানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

দক্ষিণ চীন সাগরে পৃথক দুইটি ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ও একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। রোববার (২৬ অক্টোবর) নিয়মিত মহড়ার সময় এই দুটি দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর। উভয় ঘটনায় সব ক্রু সদস্য নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।

নৌবাহিনী জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস নিমিৎজ থেকে নিয়মিত উড্ডয়ন মহড়ায় অংশ নেওয়ার সময় একটি এমএইচ–৬০আর ‘সি হক’ হেলিকপ্টার সমুদ্রে পড়ে যায়। হেলিকপ্টারটি ছিল হেলিকপ্টার মেরিটাইম স্ট্রাইক স্কোয়াড্রন (এইচএসএম)–৭৩–এর অধীনে থাকা ‘ব্যাটল ক্যাটস’ ইউনিটের। দ্রুত অভিযান চালিয়ে ক্রু সদস্য তিন জনকেই উদ্ধার করা হয়।

এর আধঘণ্টা পর, বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে একই রণতরী থেকে উড্ডয়ন করা একটি এফ/এ–১৮এফ ‘সুপার হর্নেট’ যুদ্ধবিমানও নিয়মিত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণের সময় সমুদ্রে পড়ে যায়। স্ট্রাইক ফাইটার স্কোয়াড্রন (ভিএফএ)–২২–এর অধীন ‘ফাইটিং রেডককস’ ইউনিটের এ বিমানটির দুই পাইলট সফলভাবে ইজেকশন করে নিরাপদে উদ্ধার হন বলে জানায় মার্কিন নৌবাহিনী।

দুটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।

দক্ষিণ চীন সাগর বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত জলপথ, যা ঘিরে রয়েছে চীনসহ একাধিক দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশ। তবে আন্তর্জাতিক আদালতের রায় অমান্য করে প্রায় পুরো জলসীমার ওপর সার্বভৌম দাবি জানিয়ে আসছে বেইজিং। গত দুই দশকে চীন সেখানে সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্ত নৌচলাচল কার্যক্রমের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

এই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর টহল অভিযান ওয়াশিংটনের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ, যার লক্ষ্য বেইজিংয়ের সামুদ্রিক সম্প্রসারণ ঠেকানো।

দুটি দুর্ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এশিয়া সফরে রয়েছেন। চলতি সপ্তাহে তাঁর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য ইস্যুই আলোচনার মূল বিষয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের মধ্যেই এই সফর হচ্ছে। তবে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট রোববার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তির কাঠামো তৈরি হয়েছে, যা ট্রাম্প–শি বৈঠকের আগে উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করবে।

এ বছরের শুরুর দিকে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর দুটি ‘সুপার হর্নেট’ জেট দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নৌবাহিনীর হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি এফ/এ–১৮ যুদ্ধবিমানের দাম ৬ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি।

ইউএসএস নিমিৎজ বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজগুলোর একটি এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সবচেয়ে পুরোনো বিমানবাহী রণতরী, যা আগামী বছর অবসর নেওয়ার কথা রয়েছে।

এলএইস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ