সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব ও কাতারের সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ বিশ্বজয়ী হাফেজ ইহতেশামুল হক হিরাকে সংবর্ধনা দিল ধর্ম মন্ত্রণালয় লক্ষ্মীপুরে ড্রাম ট্রাকচাপায় বৃদ্ধ ভ্যানচালকের মৃত্যু দেশে ফিরেছেন মালয়েশিয়ায় কুরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরা ইউপি নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে ইসির বৈঠক ‘নারী-শিশুর সহিংসতা ও যৌন হয়রানিতে 'জিরো টলারেন্স' কঠোরভাবে বাস্তবায়নের বিকল্প নেই’ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক যা চাচ্ছে, নতুন সরকারও তাই চাচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

হাফেজ জামেন শহীদ রহ.: জীবন উৎসর্গ করা থানাভবনের মুজাহিদ

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের থানাভবনের ইতিহাসে হাফেজ জামেন শহীদ রহ. এমন এক ব্যক্তিত্ব, যিনি বাহ্যিকভাবে ছিলেন একজন সাধারণ হাফেজে কোরআন; কিন্তু তাকওয়া, ইখলাস, সুন্নাহর অনুসরণ ও চিন্তার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নিজ যুগের বিশিষ্ট আলেম ও বুজুর্গদের অন্যতম হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

ধারণা করা হয়, ১৮১৫ সালের দিকে তাঁর জন্ম। প্রাথমিক শিক্ষায় তিনি কোরআন হেফজ করেন। তবে দ্বীনি বিষয়ে গভীর অনুধাবন ও শরিয়তের বিধিবিধান সম্পর্কে তাঁর বিশেষ জ্ঞান ছিল। তিনি মিয়ানজি নূর মুহাম্মদ ঝাঁঝানভি রহ.-এর বিশিষ্ট খলিফা ও উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণনা অনুযায়ী, বায়আতের আগে মিয়ানজি নূর মুহাম্মদ তাঁকে এক লাখ ২৫ হাজার বার ‘আয়াতে কারিমা’ পাঠের আমল দেন। তিনি অত্যন্ত একাগ্রতার সঙ্গে সেই আমল সম্পন্ন করেন।

হাফেজ জামেন শহীদ রহ.-এর সঙ্গে হাজি ইমদাদুল্লাহ মুহাজির মক্কি রহ., মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি রহ. ও মাওলানা মুহাম্মদ কাসেম নানুতভি রহ.-এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। থানাভবনের মসজিদ পীর মুহাম্মদ ওয়ালি এবং আশপাশের ত্রিতল বারান্দাগুলোতে এসব বুজুর্গ একত্র হতেন। সেখানে তারা দ্বীনি ও ইলমি বিষয়ে আলোচনা এবং বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করতেন।

১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে শামেলির ময়দানে প্রতিরোধ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় শামলিতে ব্রিটিশদের সামরিক ছাউনি ও অস্ত্রাগার ছিল। হাফেজ জামেন শহীদ রহ.ও তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে এই প্রতিরোধে অংশ নেন।

বর্ণনা অনুযায়ী, যুদ্ধের আগে তিনি নতুন পোশাক পরেন এবং সুগন্ধি ব্যবহার করেন। এরপর শুরু হয় তীব্র লড়াই। কয়েক দিন ধরে চলা এ যুদ্ধে সীমিত সামর্থ্যের প্রতিরোধকারীদের মোকাবিলা করতে হয় আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত ব্রিটিশ বাহিনীর।

লড়াইয়ের একপর্যায়ে হাফেজ জামেন শহীদ রহ. নাভির কিছুটা নিচে গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি রহ. তাঁকে কাছের একটি মসজিদে নিয়ে যান। সেখানেই তাঁর এক সঙ্গীর উপস্থিতিতে তিনি ইন্তেকাল করেন।

প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, হাফেজ জামেন শহীদ রহ.-এর মরদেহ মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি রহ. নিজের কাঁধে তুলে প্রায় ১৮ কিলোমিটার পথ হেঁটে থানাভবনে নিয়ে আসেন। পরে সেখানেই তাঁকে দাফন করা হয়।

তাঁর রফিক ও খলিফা হাকিম জিয়াউদ্দিনের সূত্রে বর্ণিত একটি ঘটনায় বলা হয়, দাফনের সময় তাঁর মরদেহ থেকে সুগন্ধ অনুভূত হয়েছিল। বর্তমানে থানাভবনে তাঁর কবরটি ভক্তদের কাছে একটি ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত।

হাফেজ জামেন শহীদ রহ.-এর জীবন ও শাহাদাতের বর্ণনায় তাসাউফ, ইবাদত, সুন্নাহর অনুসরণ এবং তৎকালীন ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ—এই বিভিন্ন দিক একসঙ্গে উঠে আসে। ১৮৫৭ সালের সেই প্রতিরোধে অংশ নেওয়া বহু ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের ভূমিকার স্মারক হিসেবেও তাঁর জীবন ও শাহাদাত ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়।

সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ