সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

মুফতি শহীদুল ইসলাম আপনাকে কীভাবে ভুলে যায় এ জাতি?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| এহসান সিরাজ ||

ছবিটি ২০০৭ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের। ছবির বামে বিএনপির নাটোর-২ সংসদীয় আসনের বর্তমান এমপি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাঝে ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত মজলিস নেতা, নড়াইল-২ আসনের সাবেক এমপি মুফতি শহিদুল ইসলাম রহ., সর্ব ডানে শামসুল হায়দার সিদ্দিকী।

ওয়ান ইলিভেনের সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। তার সময়ে তিনজন প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শতাধিক নেতা কারাগারে ছিলেন।

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল 'সামাজিক'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিছু পুরনো ছবি নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। স্মৃতিচারণে এই ছবিটি নিয়েও কথা হয়েছে। তিনি সেখানে দুলু সাহেবকে ভালোভাবে চিনলেও মুফতি শহিদুল ইসলাম রহ.কে জামায়াতে ইসলামীর কেউ হবেন বলে জানিয়েছেন!

হায়! মুফতি শহীদুল ইসলাম। আপনি তো শুধু কওমি অঙ্গনের কেউ ছিলেন না। আপনি ছিলেন সবার, পুরো জাতির, পৃথিবীর। আপনার কর্ম তো পুরো বিশ্বময়! আপনাকে কীভাবে ভুলে যায় এ জাতি?

এনজিও আল-মারকাজুল ইসলামী, মারকাজুল ইসলামী হাসপাতাল, আফ্রিকার গহীন অঞ্চলে সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে রিলিফ বিতরণ, মক্কা-মদিনায় হাজিদের সেবায় কেটারিং সার্ভিসসহ কেরানীগঞ্জে সুবিশাল এরিয়া নিয়ে আল-মারকাজু জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠা মুফতি শহীদুল ইসলামের অনন্য কৃতিত্ব।

তিনি সহস্রাধিক মসজিদ মাদরাসার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এনজিও 'আল-মারকাজুল ইসলামী'র মাধ্যমে বাংলাদেশে বেওয়ারিশ লাশ দাফন, করোনা কালে লাশ দাফন, হাসপাতাল ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ অবদান রাখেন মুফতি সাহেব। ছিলেন একাধারে আলেম, সফল ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সমাজ সেবক।

তিনি ইন্তেকাল করেছেন মাত্র তিন বছর হলো। একজন সাবেক কারাগারের ডিআইজি নয় শুধু মাদরাসা পড়ুয়া অনেকেই তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেন না। এমনটা হবে কেন? তিনি এভাবে হারিয়ে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না!

ওনার স্ত্রী, দুই ছেলেসহ মেয়ে জামাইরা আছেন। অবস্থাও তাদের ভালো। তাঁকে জাতির সামনে তুলে ধরতে তাদেরই এগিয়ে আসা উচিত। না হলে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস জামায়াতের নামে হয়ে যাবে। বিলীন হয়ে যাবে মুফতি শহীদুল ইসলামের কর্মময় জীবনের বর্ণিল অধ্যায়!

লেখক: আলেম লেখক ও গবেষক

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ