মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে কাল বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইকরা হবিগঞ্জের ফল উৎসব উদযাপিত  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু ৫৪ ফতুল্লায় বাড়িতে গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ শ্রমিক বন্যা দুর্গত দেড় হাজার পরিবারে তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ‘কৃত্রিম জলাবদ্ধতা’ তৈরির সত্যতা পেলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী অমিত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার চিন্তা করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রীদের পরিবহন করতে চায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

হাদিস বিশ্বকোষ ‘আল-মুদাওয়ানা আল-জামিয়া’র অন্যতম রচয়িতা মুফতি মাহমুদ হাসান 

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

পাকিস্তানের দারুল উলূম করাচিতে কর্মরত বাংলাদেশের এই আলেম ইতোমধ্যেই উপমহাদেশে ইলমি ময়দানে তাঁর  অবদানের জন্য বেশ সুপরিচিত হয়ে উঠেছেন।

বিশ্ব মুসলিম সমাজের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে সুবিশাল হাদিস বিশ্বকোষ “المدونة الجامعة للأحاديث المروية”। এই বিশ্বকোষ রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় অবদান রেখে চলেছেন বাংলাদেশের এক বিজ্ঞ আলেম মুফতি মাহমুদ হাসান।

এই প্রকল্পে তিনি প্রায় ২৪ বছর যাবৎ নিরলস পরিশ্রম করে আসছেন। সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামি স্কলার শাইখুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানী। এতে বিশ্বে বিদ্যমান সকল হাদিসকে হুকুমসহ একত্রিত করা হবে এবং প্রতিটি হাদীসকে একটি বৈশ্বিক শনাক্ত নাম্বার (رَقمٌ عَالَميٌّ) দ্বারা চিহ্নিত করা হবে।

গ্রন্থের অগ্রগতি ও সম্ভাবনা

এখন পর্যন্ত বিশ্বকোষটির ১৮ খণ্ড প্রকাশিত হয়েছে। মুদাওয়ানা টিম এর ভাষ্যমতে, এটি প্রায় ৫০ খণ্ড পর্যন্ত প্রলম্বিত হতে পারে। অনুমান করা হচ্ছে, গ্রন্থটির পূর্ণতা পেতে আরও দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। এরপরে বাংলাদেশে ফিরে আসার পরিকল্পনা রয়েছে মুফতি মাহমুদ হাসানের।

একজন নিবেদিত গবেষক ও শিক্ষক

বর্তমানে তিনি উপমহাদেশে শীর্ষ ইসলামি বিদ্যাপীঠ জামিয়া দারুল উলূম করাচিতে হাদিস গবেষক ও দারুল ইফতার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে করাচির একটি মাদরাসায় নিয়মিত সহিহ বুখারির দরস প্রদান করছেন।

শিক্ষাজীবন ও পারিবারিক পরিচয়

মুফতি মাহমুদ হাসানের জন্ম ১৯৮২ সালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায়। ২০০১ সালে তিনি জামিয়া দারুল উলূম করাচি থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন এবং ২০০৪ সালে তাখাসসুস ফিল-ফিকহ শেষ করেন। এরপর থেকে তিনি করাচিতেই হাদিস গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেন।

পারিবারিক জীবনে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তাঁর পিতা, মরহুম মাওলানা রুহুল আমিন ছিলেন একজন সম্মানিত আলেম এবং নিজ এলাকায় একটি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর শ্বশুর শাইখুল হাদীস মাওলানা আফজালুর রহমান বাংলাদেশের অন্যতম প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় আলেমেদ্বীন।

একটি যুগান্তকারী খেদমত

হাদীস ও ফিকহে তাঁর এই নিরলস খেদমত সমগ্র মুসলিম জাহানের জন্য এক বিশাল সম্পদ হয়ে উঠছে। ইতোমধ্যে হাদিসের সম্ভারটি বিশ্বে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই হাদিসের বিশ্বকোষ হাদিস সংরক্ষণে মজবুত ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে আল্লামা ড. ইউসুফ আল-কারযাভি, আল্লামা ড. মুহাম্মদ মুস্তফা আল-আজমি, মুফতি রফী উসমানী শাইখুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী, ড. আবদুল মালেক বিন বকর আব্দুল্লাহ কাজী, শাইখ মাহমুদ আত-তাহহান, শাইখ আবদুস সাত্তার বিন আব্দুল করীম আবু গুদ্দাহ, ড. মুহাম্মদ সায়্যিদ নুহ, ড. নেজাম ইয়াকুবির উপস্থিতিতে মক্কায় অনুষ্ঠিত একটি সভার পর এই বিশ্বকোষ সংকলনের কাজ শুরু হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয় দারুল উলুম করাচির উপর। দারুল উলুম করাচিতে এই কাজের জন্য একটি আলাদা বিভাগ খোলা হয়, যাতে ৪০ জন গবেষক নিয়োগ দেওয়া হয়। যাদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা নাঈম আশরাফ।

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ