মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে কাল বাংলাদেশে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ইকরা হবিগঞ্জের ফল উৎসব উদযাপিত  বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ, মৃত্যু ৫৪ ফতুল্লায় বাড়িতে গ্যাস–সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪ শ্রমিক বন্যা দুর্গত দেড় হাজার পরিবারে তাকওয়া চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ‘কৃত্রিম জলাবদ্ধতা’ তৈরির সত্যতা পেলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী অমিত ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষার চিন্তা করবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রীদের পরিবহন করতে চায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

উস্তাদের স্নেহচ্যুত ছাত্র: নৈতিক পতনের এক প্রতিচ্ছবি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
AI দিয়ে বানানো ছবি

|| ওলিউল্লাহ্ মুহাম্মাদ ||

মাদরাসা শিক্ষা শুধু কিছু কিতাব মুখস্থ করানোর নাম নয়; বরং এটি এক আত্মিক ও নৈতিক গঠনপ্রক্রিয়া। এখানে উস্তাদ কেবল পাঠদাতা নন—তিনি একজন মুরুব্বি, একজন চরিত্র নির্মাতা, একজন আলোকবর্তিকা। তিনি ছাত্রকে জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করার পাশাপাশি তার চিন্তা, চেতনা, মনন ও মানস গঠনেরও প্রধান কারিগর। অতীতের মাদ্রাসা ছাত্রদের জীবন ছিল উস্তাদমুখী, শ্রদ্ধাশীল, পরামর্শনির্ভর ও আত্মিকভাবে সংযুক্ত। তাদের মুখে উস্তাদের কথা ছিল ধ্রুবতারার মত, অন্তরে ছিল গভীর শ্রদ্ধাবোধ।

কিন্তু আজকের বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। বর্তমানে দেখা যায়, বহু ছাত্র মাদ্রাসায় ভর্তি হয় বটে, কিন্তু উস্তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে না। একাডেমিক বছর শেষ হয়ে যায়, অথচ সে কোন উস্তাদের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারে না, এমনকি চিনে রাখার মত একটি সম্পর্কও সৃষ্টি করে না। দরসে শরিক হওয়া তাদের জন্য নিত্য কর্তব্য নয়, বরং খেয়াল খুশির বিষয়। কারো ফিকির নেই, দরস মিস হলে যেন কিছুই যায় আসে না।

শুধু দরস নয়, চলাফেরা, উঠাবসা, আচরণ, সবকিছুতে তারা নিজের খেয়াল-খুশিমত চলে। এমনকি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো—যেমন তাকমীলের পর কোন ফন বা মাদ্রাসা নির্বাচন করা হবে—সেই সম্পর্কেও তারা উস্তাদদের সাথে পরামর্শ করে না। অনেকেই তো দরস শেষের পর ‘ফারাগাত’ নামক বন্ধনীতে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়, যেন এই বন্ধনটি ছিল কেবল সময়সীমাবদ্ধ এক আনুষ্ঠানিকতা। এরপর আর কোন যোগাযোগ নেই, সালাম নেই, হৃদ্যতা নেই—বরং থাকে নির্লিপ্ত এক ভিন্ন জগতের যাত্রা।

এই সম্পর্কহীনতার প্রভাব গভীর ও দূরগামী। কারণ, উস্তাদশূন্য শিক্ষা মানেই পিতৃহীন আশ্রয়হীন এক জ্ঞানচর্চা। এর পরিণামে অনেক ছাত্র নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়, চিন্তাচেতনায় ভারসাম্য হারায়, বিভ্রান্ত মত-পথ ও বাতিল চিন্তার দিকে ধাবিত হয়। ফিকিরহীনতা, হঠকারী মনোভাব, অহংকার ও আত্মপ্রবঞ্চনা তাকে গ্রাস করে। এমন ছাত্র যখন দাওয়াত, ইলম, মিম্বার বা ফতোয়ার ময়দানে নামে, তখন তার অভ্যন্তরীণ অপূর্ণতা গম্ভীর বিভ্রান্তির জন্ম দেয়।

উস্তাদদের ছায়া, মুরুব্বিদের দোয়া, এবং সম্পর্কের উষ্ণতা ছাড়া একজন তালিবে ইলম ঠিক যেন এক নৌকা, যার পাল আছে কিন্তু হাল নেই; এক দীপ্ত প্রদীপ, যার তেল শেষ হয়ে গেছে।

আসুন, আমরা ছাত্রদের মাঝে উস্তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, সম্পর্ক ও পরামর্শভিত্তিক সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনি। যেন তারা শুধু কিতাব নয়, উস্তাদের অন্তর থেকেও কিছু অর্জন করে; যেন তারা আদর্শবান হয়ে উঠতে পারে, বাতিলের ধোঁকা থেকে মুক্ত থাকে, চিন্তা ও চেতনায় ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। উস্তাদের স্নেহপুষ্ট ছাত্রই প্রকৃত শিক্ষার্থী, আর তার মধ্যেই গড়ে ওঠে এক আলোকিত ভবিষ্যৎ।

এমএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ