ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ ও সেক্রেটারি মাওলানা মুহাম্মাদ আরিফুল ইসলাম সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, হবিগঞ্জের কনভার্টেড মুসলিম তথাকথিত সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বিএনপি নেতা দাবি করা 'মোশাররফ আহমদ ঠাকুর' তার এক বক্তব্যে বলেন, ‘ইয়াহুদী নারীরা যখন বেশ্যাবৃত্তি করতো অথবা অন্য কোন নিষিদ্ধ কার্যক্রম করতো, তখন নেকাব পড়তো। হিজাব হল মুসলমানের ড্রেস বাট নেকাব মুসলমানের ড্রেসই না।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ইসলামের শরিয়া বিধান পর্দা তথা 'নিকাব' নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তার এই বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
তারা বলেন, এটা শুধু মা-বোনদের অপমান নয়, ইসলামের অপমান। ইসলামের শাশ্বত বিধান হলো নারীদের জন্য নিকাব পরিধান করা ফরজ। নেকাব বা মুখ ঢেকে রাখার প্রথাটি কেবল ইসলামের সাথেই যুক্ত নয়। ইসলাম আগমনের বহু আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংস্কৃতিতে নারীদের পর্দা করার বা মাথা ও মুখ ঢাকার রীতি প্রচলিত ছিল। প্রাচীনকালে এটি আভিজাত্য এবং উচ্চ সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবেও দেখা হতো। নেকাব বর্তমান সময়ে মুসলিমদের একটি ধর্মীয় পোশাক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রাচীন অন্যান্য সংস্কৃতির মধ্যেও বিদ্যমান ছিল। বর্তমানে এটি শালীনতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
নেতৃদ্বয় বলেন, তথাকথিত বিএনপি নেতাকে বাংলাদেশের সকল নিকাব পরিহিতা নারীর কাছে মাফ চাইতে হবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের মা-বোনদের সাংঘাতিকভাবে অপমান করেছেন। দেশের নারীদের একটা বড় অংশের পোশাক নিয়ে এই অবমাননা ও অমর্যাদাকর মন্তব্য করে তিনি কোনোভাবেই বিএনপিকে হেল্প করছেন না; বরং ডুবাচ্ছেন।
নেতৃদ্বয় আরো বলেন, উনি নিজেকে এবং মিডিয়ায় বিএনপি নেতা দাবি করেন। কিন্তু আদতে উনি বিএনপির কোন উইংয়ের সাথে যুক্ত তা আজ পর্যন্ত জানা যায়নি। সে যদি বিএনপির সাথে সংযুক্ত না হয়ে থাকে, তবে বিএনপির উচিত অফিশিয়ালি স্টেটমেন্ট দিয়ে এই বক্তব্যের নিন্দা জানানো এবং বিএনপির অবস্থান পরিস্কার করা। আর মিডিয়াগুলোকেও আহবান করবো, কারো সুস্পষ্ট পথ-পদবী না জেনে কাউকে মিডিয়াতে এনে তাৎক্ষণিক পথ দিয়ে দেওয়া এবং হাইলাইট ও বিতর্কিত বক্তব্য না দেয়ানো।
আরএইচ/