শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ।। ২৬ পৌষ ১৪৩২ ।। ২১ রজব ১৪৪৭

শিরোনাম :
বিশ্বজয়ী ও কৃতি হাফেজদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান স্মৃতির পাতায় হজরত মুফতি সাঈদ আহমদ পালনপুরী (রহ.)-এর শেষ দরস তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হওয়ায় জমিয়তের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সংঘর্ষে বাসের ভেতরে মোটরসাইকেল, নিহত ২ রাজধানীতে ভয়াবহ গ্যাস সংকট, কেন ঢাকার বহু এলাকায় গ্যাস নেই? আগামী নির্বাচন ৫০ বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করবে: ফাওজুল কবির খান স্বপ্নেই চিনেছিলেন সন্তানের কবর, ডিএনএ মিলল সেই গাছের নিচেই ভারতে এবার পশু চুরির অপবাদে মুসলিম ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের গাইডলাইন’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হাসনাতের মনোনয়ন বাতিল চেয়ে ইসিতে আবেদন বিএনপি প্রার্থীর

পুকুরে কোরাল মাছ চাষে আনোয়ারের সাফল্য

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

'আমরা আগে পুকুরে কোরাল মাছ চাষের কথা কোনভাবে চিন্তাও করতাম না। কারণ কোরাল হলো রাক্ষসী মাছ। পুকুরে এক-দুটি কোরাল থাকা মানে অন্য সব মাছ শেষ। তবে আমি এই প্রথম পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের পরামর্শে আমার পুকুরে গত বছর কোরাল চাষ শুরু করি। তারা আমাকে থাইল্যান্ড ৭ শতাধিক পোনা দিয়েছে। এখন আমার পুকুরের এক একটি কোরালের ওজন ৩ থেকে ৪ কেজি হয়েছে। আমি খাবার হিসেবে এসব কোরাল মাছগুলোকে গবেষকদের উৎপাদিত ফিড খাবার এবং বাজার থেকে কিনে আনা ফিড খবার দিয়েছি। আশা করছি, ব্যাপক লাভবান হবো।' কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা গ্রামের মৎস্য চাষি আনোয়ার হোসেন।

দেশী প্রজাতির কোরালের খাবার তেলাপিয়া ও চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ। মৎস্য চাষিরা ঘেরে বা পুকুরে কোরাল চাষ করলে অন্যান্য প্রজাতির মাছ খেয়ে সাবার করতো। ফলে চাষিদের লাভের বদলে গুনতে হতো লোকসান। তবে এই প্রথমবারের মতো রাক্ষসী এসব মাছ কৃত্রিম ফিড খাবারের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা হয়েছে পুকুরে।

জানা গেছে, গত এক বছর আগে উপকূল কুয়াকাটার পাশ্ববর্তী লতাচাপলী ইউনিয়নের মাইটভাঙ্গা গ্রামের মৎস্য চাষি আনোয়ার হোসেন নিজের ৩০ শতাংশ জমির মিঠা পানির পুকুরে কোরাল চাষ শুরু করেন। দীর্ঘ গবেষণার পর সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজের একদল গবেষক থাইল্যান্ড থেকে ৭ শতাধিক পোনা আমদানি করে এ মৎস্য চাষিকে সরবারহ করেন। কোরাল মাছের খাদ্য হিসেবে দেয়া হয়েছে গবেষকদের উৎপাদিত সিউইড সমৃদ্ধ কৃত্রিম খাবার। সঠিক পরিচর্চায় মাত্র ১ বছরের  ব্যবধানে আনোয়ারের পুকুরের এক একটি কোরালের ওজন হয়েছে ৩ থেকে ৪ কেজি। তার দেখাদেখি এখন অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন কোরাল চাষে।

বাংলাদেশ মৎস্য অধিদপ্তরের সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড ফিশারিজ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক শরিফুল আজম বলেন, দেশের উৎপাদিত পোনা মূলত তৈরি খাবার না খাওয়ার কারণেই থাইল্যান্ড থেকে এসব পোনা আমদানি করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ গবেষণার পর কৃত্রিম খাদ্যের কোরালের পোনা বর্তমানে কক্সবাজারের কয়েকটি হ্যাচারিতেও উৎপাদিত হচ্ছে। চাষিরা চাইলে সেখান থেকেও কোরালের পোনা নিয়ে আসতে পারবে। উপকূলীয় এলাকায় আমরা ফিড খাবারের কোরাল চাষ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছি। এটির পোনা উৎপাদন থেকে শুরু করে বড় করা পর্যন্ত সফলতা পাওয়া গেছে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক ও সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড ফিশারিজ প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, উপকূলীয় এলাকায় কৃত্রিম খাদ্যের মাধ্যমে কোরাল চাষ ছড়িয়ে দিতে দীর্ঘ গবেষণা করা হয়েছে। এমনকি এসব মাছের খাবার বিশ্ববিদ্যালয়ে বসেই মেশিনের মাধ্যমে উৎপাদন করা হয়েছে। এসব মাছের খাবারে সামুদ্রিক শৈবাল (সিউইড) ব্যবহার করা হয়েছে। বাংলাদেশে এই প্রথম সামুদ্রিক শৈবাল সহযোগে কৃত্রিম খাদ্যের মাধ্যমে থাইল্যান্ডের হ্যাচারিতে উৎপাদিত কোরাল মাছের চাষ পদ্ধতি নিয়ে তার দল কাজ করছে। পুকুরে ১ বছরে চাষ করে ২ থেকে ৩.৫ কেজি ওজনের হওয়ায় শুধু দক্ষিণাঞ্চল নয়, পুরো বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যচাষিদের কাছে নতুন এক সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ