সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
টঙ্গীতে ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে সহোদরসহ ৪ শিশুর মৃত্যু   সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকার আহ্বান দূতাবাসের মক্কা-মদিনায় হুমকি এলে বসে থাকবে না বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ রিয়াদে হামলার নিন্দা, ওমরাহযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের উচ্চস্বরে আজানের অভিযোগে ভারতে মুয়াজ্জিন গ্রেপ্তার, মাইক জব্দ উগ্রবাদ মোকাবিলায় শুধু নিন্দা নয়, সচেতন মন গঠন জরুরি: মিসরের গ্র্যান্ড মুফতি পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ১ হাজার ৪৪ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ৮৮ ভরি রুপা মদিনায় ইফতার সরবরাহে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের আবেদন আহ্বান ১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা

শাবান মাসের তাৎপর্য ও আমল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আলহাজ হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ আজিজুল হক।। শা’বান আরবী শব্দ। এর অর্থ বিস্তৃত হওয়া,চারিদিকে ছড়িয়ে পড়া। এ মাস রহমত বিস্তৃত হওয়ার মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীবাসীর উপর তাঁর বিশেষ রহমত বিস্তার করেন,এ কারণে এ মাসকে শা’বান মাস বলা হয়। রমযানের পূর্ণ প্রস্তুতির মাস শা’বান মাস। এটা ইবাদত-বন্দেগীর মাস।

হাদীসে এ মাসকে আমলের চারায় পানি সেচের মাস বলা হয়েছে। চারা গাছের সঠিক পরিচর্যা এবং পানি সেচ ছাড়া যেমন ভালো ও অধিক সফল পাওয়া অসম্ভব। তেমনি এ মাসে আমলের অনুশীলন ছাড়া রমযানে বেশি বেশি নেকী কামাই করা কল্পনামাত্র।

মহানবী সা এ মাসের সম্বন্ধ নিজের দিকে করেছেন। এতে এ মাসের মর্যাদা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। কেননা একটা নিয়ম আছে, যে জিনিসের সম্বন্ধ যতবড় ব্যক্তি ও অতি প্রিয়জনের প্রতি হয় তার মূল্য ততই বাড়ে। হযরত উসমান (রাঃ) বলেন,রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেছেন,শা’বানু শাহরী ওয়া রমযানু শাহরুল্লাহ......অর্থাৎ শা’বান মাস আমার মাস,আর রমযান হলো আল্লাহর মাস।

সুতরাং তোমরা শা’বানের চাঁদের সঠিকভাবে হিসাব রাখ। কেননা শা’বানের চাঁদের হিসাব সঠিক হলে রমযানের চাঁদের হিসাব সঠিক হতে সহায়ক হবে। (বাইহাকী) নবীজি (সাঃ) যেমনিভাবে সমস্ত নবীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, তেমনিভাবে এ মাসকে তাঁর দিকে নিসবত করার কারণে শাবান মাস রমযান ব্যতীত অন্যান্য সকল মাস থেকে শ্রেষ্ঠ এবং উত্তম। শা’বানের ফযীলতের কারণেই বিশ^নবী (সাঃ) অন্য সব মাসের তুলনায় এ মাসে বেশি বেশি রোযা রাখতেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইরশাদ করেন,শাবান মাসের রোযা আমার নিকট অন্যান্য মাসের তুলনায় অধিক প্রিয়। (ইবনে মাজাহ) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রাঃ) মহানবী (সাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন,ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি শা’বান মাসে এত বেশি রোযা রাখেন কেন? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন,এ মাসে মালাকুল মাউত হযরত আজরাঈল (আঃ)-এর নিকট ঐ সমস্ত লোকের তালিকা দেয়া হয় যারা এ বছর মারা যাবে।

সুতরাং আমি চাই যে,আমার মৃত্যুর পরোয়ানাটা এমন সময় লেখা হোক যে সময় আমি রোযাদার। অপর হাদীসে আছে,তোমরা যেভাবে মৃত্যুবরণ করবে সেভাবে হাশরে উঠবে। আর তোমাদের মৃত্যু সেভাবে হবে যেভাবে তোমরা জীবন-যাপন করবে। (মিশকাত) শা’বান মাসের তাৎপর্য সম্পর্কে বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ) বলেন,‘শা’বান’ শব্দ লিখতে আরবীতে পাঁচটি হরফ লাগে।

আর এই পাঁচটি হরফ দ্বারা পাঁচটির জিনিসের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। সুতরাং কোন বান্দা যদি শা’বান মাসে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগী করে,তাহলে সে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে সেই পাঁচটি জিনিস তথা সম্মান,সমৃদ্ধি,নেকী,আল্লাহর ভালোবাসা ও ঈমানের আলো অর্জন করতে পারবে। (গুনিয়াতুত তালেবীন) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর খাদেম হযরত আনাস (রাঃ) বলেন,সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) শা’বানের চাঁদ দেখলে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াতে মশগুল হতেন,পাহাড়-জঙ্গল থেকে লাকড়ি কেটে আনতেন।

যাদের উপর যাকাত ফরয হয়েছে তারা মালের যাকাত আদায় করে দিতেন যাতে গরীব মুসলমানদের রোযা রাখার ব্যবস্থা হয়ে যায়। বিচারকগণ কয়েদিদের ডেকে হয় শাস্তির ফয়সালা করে দিতেন,না হয় মুক্তি দিয়ে দিতেন। বুঝা গেলে,সাহাবীগণ শা’বান মাস আসলেই তারা নিজেদের দুনিয়াবী কাজকর্ম গুটিয়ে নিতেন। যাতে রমযান মাসে নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর মাসকে আল্লাহর ইবাদতে কাটাতে পারেন। আর এ মাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ‘শবে বরাত’। শবে বরাত সম্পর্কে শায়খ আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) বলেন, মুসলমানদের জন্য দুনিয়াতে যেমন দুটি ঈদ রয়েছে।

ফেরেশতাদের জন্যও আসমানে দুটি ঈদ রয়েছে। মানুষের ঈদ হচ্ছে,ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। আর এটা দিনে হয়,কারণ মানুষ রাতে ঘুমায়। আর ফেরেশতাদের দুটি ঈদ হচ্ছে শবে বরাত ও শবে কদর। যেহেতু ফেরেশতাগণ কখনো ঘুমান না এ জন্য তাদের ঈদ রাতে রাখা হয়েছে। (গুনিয়াতুত তালেবীন) ১৪ই শা’বানের দিবাগত রজনীই হচ্ছে পূণ্যময় ‘শবে বরাত’।

যাকে আরবীতে ‘লাইলাতুল বরাত’ আর হাদীসের ভায়ায় ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শা’বান’ বলা হয়েছে। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, একবার জিবরাঈল (আঃ) আমাকে বললেন, আপনি মাথা উঠান। আমি আসমানের দিকে মাথা উঠিয়ে দেখলাম, জান্নাতের সব দরজা খোলা রয়েছে। আর প্রত্যেক দরজায় একেক জন ফেরেশতা সুসংবাদ ও আহবান জানাচ্ছে।

সুসংবাদ-যে এরাতে রুকু করছে,যে সেজদা করছে,যে দোয়া করছে,যে যিকির করছে,যে আজ আল্লাহর ভয়ে কাঁদছে,সুসংবাদ-সমস্ত মুসলমানের জন্য। ৭ম দরজায় বলছে,আজ যে প্রার্থনা করবে, তার দরখাস্ত কবুল করা হবে। ৮ম জন বলছে , কোন ক্ষমা প্রার্থনাকারী আছে কি? তাকে ক্ষমা করা হবে। আমি জিবরাঈল (আঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, এ দরজাসমূহ কতক্ষণ খোলা থাকবে? বললেন,শুরু রাত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত।

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ